বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল হালিম বলেছেন, মিরাজের মাধ্যমে রাসুল সা. আল্লাহর বিভিন্ন নিদর্শন দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন।

মুলতঃ রাসুল সা. এর জীবনে ইসলামী রাস্ট্র গঠনের একটি রূপরেখা দেয়া হয়েছিলো মিরাজের মাধ্যমে। সূরা বনি ইসরাঈলের ২২ থেকে ২৮ নং আয়াতে আল্লাহ ইসলামে রাস্ট্র গঠনের একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তুলে ধরেছেন।

দেশের মানুষের শান্তি-সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এবং ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা তথা ইসলামী রাস্ট্র গঠনের বিকল্প নেই। কিন্তু সেদিন কাফের-মুশরিক শক্তি যেমন মিরাজের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মিথ্যাচার চালিয়েছিলো আজও ইসলাম বিরোধী শক্তি ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনকে নস্যাৎ করে দিতে নানামুখী অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের পথ বেছে নিয়েছে।

সেই সঙ্গে ইসলামপন্থী সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গের উপর চালানো হচ্ছে জুলুম-নির্যাতন। সেদিন যেসব কাফের-বেঈমানরা মিরাজের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছিলো, সময়ের ব্যবধানে আল্লাহ তাদের মিথ্যাচারকে মানুষের সামনে উম্মোচিত করে দিয়েছেন এবং সত্যকে বিজয় দান করেছেন।

আজও যারা অপপ্রচার, মিথ্যাচার, জুলুম-নির্যাতন করে আল্লাহর দ্বীনকে নিঃশেষ করে দিতে চায় সময়ের ব্যবধানে আল্লাহ তাদের ষড়যন্ত্রকেও ব্যর্থ করে দিবেন। সুতরাং হতাশ না হয়ে, নিরাশ না হয়ে ইসলামী সমাজ বিনির্মানের জন্য ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেরকে নিজেদের তৈরি করতে হবে।

পবিত্র শবে মেরাজ উপলক্ষ্যে শনিবার বিকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খিলগাঁও থানা আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মহানগরীর শূরা সদস্য ও খিলগাঁও থানা আমীর সগীর বিন সাঈদের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি অধ্যাপক রবিউল ইসলামের পরিচালনায় আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামায়াত নেতা এডভোকেট ইব্রাহীম, জহিরুল হক প্রমুখ।

মাওলানা আব্দুল হালিম আরো বলেন, সঙ্ঘাতময় বিশ্বে আজ শান্তির নিশ্চয়তা দিতে পারে একমাত্র ইসলামই। বিপন্ন মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ও সার্বজনীন জীবন ব্যবস্থা হিসেবে প্রমানিত।

আর ইসলামকে একটি বিশ্বজনীন রূপ দেয়ার জন্য বিশ্বনবী সা. আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা পেয়েছিলেন পবিত্র মিরাজ রজনীতে। এ জন্য এ রাতটি প্রত্যেক মুসলমানের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

রাসূল সা. এর সকল মুযিযার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুযিযা হলো পবিত্র মিরাজ। এ রাতে তিনি বায়তুল মোকাদ্দাসে সকল নবীর ইমাম হয়ে সাইয়্যিদুল মুরসালিনের আসনে স্থায়ীভাবে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। ফলে এ রাতটি নিঃসন্দেহে তার শ্রেষ্ঠত্বের গৌরবোজ্জল নির্দশন বহন করে।

পবিত্র মিরাজকে কেন্দ্র করে কাফির বেঈমানরা ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের কৌশল বেছে নিয়েছিলো। কিন্তু সেদিন শাশ্বত বিধানের কাছে তাদের মিথ্যাচারের অসাড়তা প্রমানিত হয়েছিলো।

চিরদিন সত্যের বিজয় আর মিথ্যার এই পরাজয় আজও সত্য-মিথ্যার চিরন্তন দ্বন্দ্বে ইসলামের বিজয়ের ঐতিহাসিক সাক্ষীরূপে বিদ্যমান।

তিনি পবিত্র মিরাজের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশসহ বর্তমান বিশ্বের মজলুম মুসলমানদেরকে নির্যাতনের হাত থেকে মুক্তির জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান।

এসএইচ