জামায়াত নেতা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে ষড়যন্ত্রমুলক হত্যা চেষ্টার প্রতিবাদে এবং অনতিবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মোহাম্মদপুরে শীতবস্ত্র বিরতণ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী।
শনিবার সকালে এ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিলটি সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরীর মজলিশে শুরা সদস্য সদস্য হাফিজুর রহমান।
এতে উপিস্থিত ছিলেন মহানগরী মজলিশে শুরা সদস্য আবুল কাসেম ও আবু ফতেহ, জামায়াত নেতা মহিউদ্দীন, নেসার উদ্দীন, শাহজাহান খান, আসাদুজ্জামান, মোক্তার হোসেন, কবির হোসেন, নওশের আলম, রিয়াজ উদ্দীন, গিয়াস উদ্দীন ও হীরা প্রমূখ।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে হফিজুর রহমান বলেন, ‘আমীরে জামায়াত, খ্যাতিমান আলেমে দ্বীন, বরেণ্য ইসলামী চিন্তাবিদ ও বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের পুরোধা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে ষড়যন্ত্রমুলক হত্যার চেষ্টা করছে সরকার।’
তিনি বলেন, সরকার মেধা ও নেতৃত্বশুন্য করে দেশকে করদরাজ্য বানাতেই হত্যা ও ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। একের পর এক জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ জাতীয় নেতাদের হত্যা করে দেশকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করছে।
তিনি সরকারকে জিঘাংসা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে আবিলম্বে আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় জনগণ আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করবে না।
একইদিন সকালে মোহাম্মদপুর থানার ৪৬ নং ওয়ার্ডের উদ্যোগে দ্ররিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে শীতবস্ত্র বিরতণ করা হয়।
বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও মোহাম্মদপুর থানা আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন।
৩৩ নং ওয়ার্ড সভাপতি আলী আহমদ মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আদাবর থানা আমীর ডা. শফিউর রহমান। এতে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা আব্দুল ওয়াজেদ কিরণ, মোঃ নাজমুল হোসেন, নজরুল ইসলাম ও আবু হানিফ প্রমূখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোন গতানুগতিক রাজনৈতিক দল নয় বরং দেশ ও জনগণের যেকোন ক্রান্তিকালে জামায়াতে ইসলামী গণমানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। সে ধরাবাহিকতায় আমরা আমাদের সীমিত সামর্থ নিয়ে শীতার্থ মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি।
মানুষের জন্য আমাদের এই কল্যাণকামীতা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। তিনি শীতার্থ ও দুর্গত মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসতে সমাজের বিত্তবান মানুষ, দাতাসংস্থা ও সরকারের প্রতি আহবান জানান।
তিনি বলেন, রাজধানীসহ সারা দেশে শীতের প্রকোপ বেড়ে গেলেও সরকার শীতার্থ মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। মূলত গণমানুষের সকল সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের।
কিন্তু ক্ষমতাকেন্দ্রীক রাজনীতির কারণে মানুষ রাষ্ট্রের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত। যারা দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার আন্দোলনে অগ্রসৈনিকের ভূমিকা পালন করছে সরকার তাদের উপর নির্মম ও নিষ্ঠুর জুলুম-নির্যাতন চালাচ্ছে।
মূলত গণমানুষের সকল সমস্যা সমাধান করতে দেশকে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার কোন বিকল্প নেই। তিনি গণমানুষের কল্যাণে কাজ করতে সকলকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহবান জানান।
এমকে





