গুম-খুন ও অপহরণের জন্য সরকারকে দায়ী করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, এজন্য সরকারকে পদত্যাগ করা উচিত। অবিলম্বে আমি এই সরকারের পদত্যাগ দাবি করছি।”
মঙ্গলবার দুপুরে অপহরণের পর হত্যার শিকার প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ অন্যদের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আবারও অবিলম্বে র্যা ব বিলুপ্তির দাবি জানিয়ে বলেছেন, র্যাব এখন মানুষ খেকো রক্তচোষা হয়ে গেছে। র্যাব যতদিন থাকবে, ততদিন তারা মানুষকে গুম করবে। আওয়ামী লীগ সরকার র্যাবকে দলীয় কাজে ব্যবহার করে মানুষ গুম করছে, ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
নিহতদের পরিবারকে উদ্দেশ্য করে খালেদা জিয়া বলেন, হত্যার নেপথ্যে কারা জড়িত এ বিষয়ে আপনারা সাহসী ভূমিকা রাখছেন। এখন আপনাদেরকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। এসব পরিবারের কিছু হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন বিএনপি নেত্রী।
তিনি র্যাব-১১ এর কথা উল্লেখ করে বলেন, “র্যাব-১১ প্রধান নিজেকে খুব পাওয়ারফুল মনে করে। কারণ তিনি একজন মন্ত্রীর জামাই। তাছাড়া তাদের সঙ্গে গুম-খুন ও অপহরণে জড়িত অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্ক রয়েছে। এজন্য তারা নিজেদেরকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করেন। অবিলম্বে এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে।”
খালেদা জিয়া বলেন, এদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা না হলে প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশের মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে। আমরাও রাস্তায় নামতে বাধ্য হবো।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “আর নয় চোখের পানি, আর নয় গুম-খুন ও অপহরণ। এসব বন্ধ করতে সরকারকে বিদায় নিতে হবে। এরা ক্ষমতায় থাকলে গুম-খুন ও অপহরণ বন্ধ হবে না। তাই এই সরকার যতক্ষণ ক্ষমতায় থাকবে, ততক্ষণ প্রতিবাদ করতে হবে।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জের মিজমিজি এলাকার মৌচাক মাদ্রাসা রোডে বুকসগার্ডেনে নজরুল ইসলামের বাসায় পৌঁছান তিনি।
বেগম জিয়া নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটিকে সান্তনা দেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম, নজরুল ইসলামের ছোট ভাই আবদুস সালাম ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
এসময় বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এম তরিকুল ইসলাম, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিউদ্দিন আহমেদ, ডা. এ জে এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বরকতউল্লাহ বুলু, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, সিনিয়র সহসভাপতি শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুজ্জামান, সহসভাপতি বদরুজ্জামান খসরু, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, সোনারগাঁও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই রাজু প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালত থেকে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নজরুল ইসলাম ছাড়াও তার প্রাইভেটকার চালক জাহাঙ্গীর, মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, অ্যাডভোকেট চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম। এরপর নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার শান্তিনগর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
[b]ঢাকা, এমএইচ, ১৩ মে (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসএইচ[/b]
রাজনীতি
গুম-খুন ও অপহরণের দায়ে সরকারের পদত্যাগ দাবী খালেদার
গুম-খুন ও অপহরণের জন্য সরকারকে দায়ী করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, এজন্য সরকারকে পদত্যাগ করা উচিত। অবিলম্বে আমি এই সরকারের পদত্যাগ দাবি করছি





