গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে টানা ৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকার কারনে সংগঠনের দিকে বেশি নজর দিতে পারেনি দলটি। এতে সাংগঠনিক অবস্থা অনেক দূর্বল হয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর ঢাকা মহানগরসহ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন চলছে মেয়াদহীন কমিটি দিয়ে। তাই দলকে সুসংগঠিত ও মজবুত করতে আওয়ামী লীগ সভাপতি এবার কঠিন সিদ্ধন্ত নিয়েছেন।

গত ২০ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য এবং উপদেষ্ঠা পরিষদের বৈঠকে দলের সভাপতি দলকে সুসংগঠিত ও মজবুত করার বিষয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন। ওই বৈঠকেই দশটি টিম গঠন করে দেয়া হয়েছে। এই টিমগুলোকে সারাদেশে সাংগঠনিক সফর করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জেলা সম্মেলন সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

দলীয় সভাপতির নির্দেশ অনুযায়ী কাজ শুরু করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। সম্মেলনের কার্যাবলি ঠিক করতে গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমণ্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক করেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদকরা। ওই বৈঠকে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফও উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা টাইমনিউজবিডিকে বলেন, দলের বিভিন্ন শাখায় নির্দিষ্ট সময়ে কমিটি না হওয়ার কারণে এলোমেলো হয়ে পড়েছে দলের নিয়ম-শৃঙ্খলা। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কেউ কারো কথা শুনছেন না। একের পর এক অর্ন্তকোন্দলে জড়িয়ে পড়ছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। দলে নতুন নেতৃত্ব না আসায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছেন তারা।

এছাড়াও বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্যের হাত থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অতন্দ্র প্রহরীর মত থাকতে হবে। তাই ডিসেম্বরের মধ্যে সারাদেশের সম্মেলন সম্পন্ন করে দলকে শক্তিশালী করতে হবে।

এদিকে জেলা সম্মেলন সম্পন্ন করতে গত ৮ জুন আওয়ামী লীগ সম্পাদকরা প্রধানমন্ত্রীর ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে একটি বৈঠক করেন। বৈঠকে কয়েটি জেলার সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নিলেও শোকের মাস আগষ্টের কারণে তা করতে পারেন নি। তবে এবার ডিসেম্বরের মধ্যে সব জেলা কমিটি সম্পন্ন করতে দলীয় সভানেত্রী কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। তাই যেকোন মূল্যে ডিসেম্বরের আগেই এই কাজ সম্পন্ন করতে চান দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকরা।

দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী কাজ শুরু করেছেন দ্বায়িত্বপ্রাপ্তরা। ইতোমধ্যে রাজশাহী বিভাগের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ৩০ নভেম্বরের মধ্যে রাজশাহী বিভাগের সকল জেলা উপজেলার সম্মেলন শেষ করার দিনক্ষণ ঠিক করে ফেলেছেন।

তিনি জানান, রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন উপজেলায় অনেক আগে থেকে সম্মেলন চলছে। খুব শিগগিরই উপজেলা সম্মেলন শেষ হবে।

এরপর আগামী ২৫ অক্টোবর রাজশাহী মহানগর, ৯ নভেম্বর জয়পুরহাট জেলা, ২০ নভেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা, ২৭ নভেম্বর রাজশাহী জেলা, ২৯ নভেম্বর পাবনা জেলা, ৩০ নভেম্বর নাটোর জেলায় সম্মেলন করা হবে।

অন্যদিকে সিলেট বিভাগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করতে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর জেলা সভাপতিদের নিয়ে একটি বৈঠক করবেন সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। সেই বৈঠকেই বিভিন্ন জেলা সম্মেলনের দিনক্ষণ ঠিক করা হবে।

গত শনিবার আওয়ামী লীগরে যৌথসভায় শেখ হাসিনা বলেছিলেন, সংগঠনই দলের আসল শক্তি। দলকে সুসংগঠিত ও মজবুত করতে হবে। তাই আগামী ডিসেম্বরেরর মধ্যেই জেলা সম্মেলন সম্পন্ন করবে। সারাদেশে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সম্মেলন চলছে। এসব সম্মেলন ত্বরান্বিত করা দরকার। তৃণমূল থেকে নতুন নেতৃত্ব তুলে আনতে হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন টাইমনিউজবিডিকে বলেন, অনেক দিন আগে থেকেই আমরা দল গোছানোর কার্যক্রম শুরু করেছি। গত শনিবার আমাদের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা ও উপজেলা সম্মেলন শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছি। আগামী নভেম্বর মাসেই আমাদের কাজ শেষ করতে চাই।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ টাইমনিউজবিডিকে বলেন, দলকে শক্তিশালী করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সারাদেশের জেলা সম্মেলন করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা সে অনুযায়ী কাজ শুরু করেছি। প্রধানিমন্ত্রীর নির্দেশনার পর আমার সাংগঠনিক সম্পাদকরা একটি বৈঠক করেছি। বৈঠকে জেলা সম্মেলন সম্পন্ন করার বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরের আগেই আমারা আমাদের কার্যক্রম সম্পন্ন করবো।

ঢাকা, এমআর , ২৫ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, কেবি