বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য এম দেলোয়ার হোসেন বলেছেন, সরকার গণআন্দোলন নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে দমনের জন্যই হত্যা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে বধ্যভূমিতে পরিণত করেছে। কথিত বন্দুকযুদ্ধ ও ক্রসফায়ারের নামে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে।
কিন্তু সরকারের জুলুম-নির্যাতন যত বাড়ছে জনতার প্রতিরোধও ততই শানিত হচ্ছে। তিনি গণদাবী মেনে নিয়ে সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ ও কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে অবিলম্বে নির্বাচন দেয়ার আহবান জানান। অন্যথায় এ জন্য সরকারকে চরমমূল্য দিতে হবে।
তিনি আজ রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী আয়োজিত ২০ দলীয় জোটের সমাবেশে বাধাদান প্রতিবাদ এবং অবৈধ সরকারের পদত্যাগ ও কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধের সমর্থনে এক মিছিল পরবর্তী সমাবেশে একথা বলেন।
মিছিলটি সিটি কলেজের সামনে থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাস্তা অবরোধ করে সমাবেশে করে। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন শিবিরের কেন্দ্রীয় মানবাধিকার সেক্রেটারি শাহ মাহফুজুর রহমান, ঢাকা কলেজ সভাপতি নাজিম উদ্দীন, সেক্রটারি মতিউর রহমান, হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত আমীর আব্দুল বারী আকন্দ, মোহাম্মদপুর থানা সেক্রেটারি ডা. শফিউর রহমান, ধানমন্ডি সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলী, কলাবাগান সেক্রেটারি শাহেদ আলম, নিউ মার্কেট সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা হাবিবুর রহমান জাকারিয়া ও ছাত্রনেতা জোবায়ের প্রমূখ।
এম দেলোয়ার হোসেন বলেন, সরকার দেশের গণতন্ত্র গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করার জন্যই ৫ জানুয়ারি তামাশা ও ভাঁওতাবাজীর নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা জবর দখল করেছে।
কথিত এ নির্বাচনের ৫ শতাংশ মানুষও ভোটাধিকার করেনি। ১৫৪ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় প্রমাণিত হয় সরকারের এই প্রহসনের নির্বাচনে দেশের সিংগভাগ ভোটারকে ভোট দানের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। মূলত দেশের মানুষ সরকারের পতানো ও ষড়যন্ত্রের নির্বাচন ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই এই তামাশার নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ ও সরকার অবৈধ ও অসাংবিধানিক।
তিনি অবৈধ সংসদ বাতিল, গণবিচ্ছিন্ন সরকারের পদত্যাগ ও কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় সরকারের জন্য করুণ পরিণতি অপেক্ষা করছে।
শ্যামপুর-কদমতলী থানা:
টানা অবরোধের সমর্থনে শ্যামপুর ও কদমতলী থানার উদ্যোগে নগরীতে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি জুরাইন থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাস্তা অবরোধ করে সমাবেশ করে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াত নেতা নেসার উদ্দীন। উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা মহীউদ্দীন, আবুল কাসেম ভূঁইয়া, কামরুল হাসান, আমিনুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান ও শরীফুল ইসলাম প্রমূখ।
এসএইচ





