জন্মদিনের কেক কাটার মধ্য দিয়ে ৬৯ বছরে পা দিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিবসহ প্রতিটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের উপস্থিতিতে তিনি জন্মদিনের কেক কাটেন। এ সময় তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

পরে সেই কেক মাদরাসা, এতিমখানা ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিতরনের জন্য পাঠিয়ে দেয়া হয়।

যদিও তার এ জন্মদিন নিয়ে বিতর্ক রযেছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বরাবরই বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু দিবস ১৫ আগস্টে তার এ জন্মদিন উদযাপন নিয়ে সমালোচনায় মুখর রয়েছে।

জানা যায়, খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট বাবার কর্মস্থল দিনাজপুরের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের পর তার নাম রাখা হয় খালেদা খানম। পুতুল তার ডাক নাম। বাবার নাম এস্কান্দার মজুমদার।

গুলশান কর্যালয় সূত্র জানায়, জন্মদিন উপলক্ষে খালেদা জিয়া বা গুলশান কার‌্যালয়ের পক্ষ থেকে কোন অনুষ্ঠনের আয়োজন করা হয়নি। আনুষ্ঠানিকভাবে জন্মদিন উদযাপন করেন না খালেদা জিয়া। তবে দলের নেতাকর্মীরা প্রতিবছরই কেক নিয়ে আসেন। সেই কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

জানা যায়, খালেদা জিয়ার পৈত্রিক বাড়ি ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলায়। মা তৈয়বা মজুমদার দিনাজপুরের চন্দন বাড়ির মেয়ে। ১৯৬০ সালের আগস্টে সেনা কর্মকর্তা পরবর্তী সময়ে (সেনাবাহিনী প্রধান ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি) জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে কিছু সেনা সদস্যের হাতে জিয়াউর রহমান নিহত হন। ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের মধ্য দিয়ে গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে পা রাখেন খালেদা জিয়া। তার দুই ছেলে। বড় ছেলে তারেক রহমান পিনু বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো একজন ব্যবসায়ী।

বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য সায়রুল কবীর খান জানান, শুক্রবারও দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের কার্যালযে ম্যাডামের জন্মদিনের কেক কাটা হবে। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ায় যাবেন। সেখানে জুমার নামাজের পর হাঁস-মুরগী বিতরণ করবেন। আসরের নামাজের পর কেক কাটা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া সারাদেশে নেতাকর্মীরা তাদের মতো করে কেক কাটা ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে চেয়াপারসনের জন্মদিন উদযাপন করবেন।

কেক কাটা অনুষ্ঠানে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটি সদস্য ড. আর এ গণি, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, মানবাধিকার সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, সহ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ছাত্রদল সভাপতি আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, মহিলা দল সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানাসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা, ১৫ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ