জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ বলেছেন, দেশের বর্তমান সময়কে ‘অন্ধকার যুগ’।
আজ রোববার দুপুরে কুমিল্লা টাউন হলে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টি আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এরশাদ বলেন, ‘ইউনিভার্সিটিতে (বিশ্ববিদ্যালয়ে) শিক্ষকের গায়ে হাত দেয়। আমরা লজ্জায় মরে যাই।
আমাদের সময়ে শিক্ষকদের স্যালুট করতাম। আমরা হিন্দুদের জমি দখল করিনি। এখন হাজার হাজার লীগ হয়েছে। তরুণ লীগ, শিশু লীগ। এটা অন্ধকার যুগ।’
দেশ কোথায় আছে—এমন প্রশ্ন রেখে এরশাদ বলেন, কেউ প্রতিবাদ করলে তাঁকে পরের দিন আর পাওয়া যায় না। রাস্তায় নিথর দেহ পড়ে থাকে। মানুষ গুম হয়ে যাচ্ছে। মানুষ কথা বলতে পারে না। লেখার অধিকার নাই। ভোটের অধিকার নাই। বাঁচার অধিকার নাই। দেশে সুশাসন নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। মানুষের মনে ভয়। এখন এই ধরনের অত্যাচার থেকে মানুষ রক্ষা পেতে চায়।
সাবেক স্বৈরশাসক এরশাদ বলেন, ‘১৯৯০ সালে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দিলাম। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। মানুষ সুখে থাকবে। কিন্তু ছয় দিনের মধ্যে যে শাহাবুদ্দিনকে আমি শপথ পড়িয়েছি, তিনি আমাকে জেলে পাঠিয়ে দিলেন। আমার স্ত্রী, ছেলেসহ তিন বছর জেলে ছিলাম। ছেলের পড়াশোনার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষমতা ছেড়ে এ প্রতিদান পেলাম।’
বক্তব্যের একপর্যায়ে এরশাদ কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টির দুই সদস্যের কমিটির নাম ঘোষণা করেন। এতে সভাপতি পদে সাংসদ নুরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক পদে এইচ এন এম শফিকুর রহমানের নাম ঘোষণা দেন। এ সময় দুই নেতার হাত উঁচিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন।
সম্মেলনে পানিসম্পদমন্ত্রী ও জাপার সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘যাঁরা ঢাকায় বসে রাজনীতি করেন, তাঁরাই স্বৈরাচার বলেন। অথচ গ্রামে গেলে কেউ তা বলে না।’
জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, ‘আমরা মধ্য আয়ের দেশ বলি, কিন্তু নাগরিকের নিরাপত্তা নেই।
এ সরকারের আমলে মায়ের পেটের শিশু নিরাপদ নয়। আজকে ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন, দলীয়করণ, দখলবাজি ও টেন্ডারবাজি হচ্ছে। জাতীয় পার্টির আমলে এসব ছিল না। মানুষ দুই দলের অবসান চায়।’
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ও কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের সাংসদ নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে সাংসদ মো. আমির হোসেন ভূঁইয়া, বেগম রওশন আরা মান্নান প্রমুখ বক্তব্য দেন।
এসএইচ





