বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, সব স্বৈরাচারেই গণমাধ্যম ও প্রতিবাদী কণ্ঠকে ভয় পায়।তবে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধে যারাই হাত দিয়েছে তাদের হাত পুড়ে গিয়েছে। ইতিহাস তাই বলে।
শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত সাংবাদিক স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিতে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ থাকার ফলেই ইতোপূর্বে সকল আন্দোলন সফল হয়েছিল। এখনও যদি গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকরা এক হয় তাহলে অধিকার আদায়ের চলমান এ আন্দোলন সফল হবেই।
দীর্ঘদিন রাজনীতিতে নি:শ্চুপ থাকার বিষয়ে তিনি নিজেই এর ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, দেশে বর্তমানে রাজনীতি নেই বলেই এতদিন কোন কথা বলিনি। কিন্তু আজ সাংবাদিকদের অধিকারের প্রশ্ন আসায় এখানে এসেছি।
বিএনপির আলোচিত এ স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে গণমাধ্যমের ওপর আরোপিত সকল কিছু বাতিল করা হবে। অযথা কিংবা হয়রানিমূলক ভাবে সাংবাদিকদের জেলে যেতে হবে না।
বিএনপির পরবর্তী সরকার হবে ভিন্ন ধরণের জানিয়ে তিনি বলেন, যে সকল প্রতিষ্ঠান গণতন্ত্রকে উজ্জীবিত করে সে সকল প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীন ভাবে চলতে দিতে হবে। তারমধ্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, কার্যকর সংসদের জন্য বিরোধী দলকে প্রাধান্য দেওয়া, দুদক, পিএসসি ও নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হবে।
বিএনপির ক্ষমতায় গেলে কি আগের মতই দেশ চালাবে নাকি আওয়ামী লীগের দেখানো পথে হাটবে? নিজের করা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদেরকে গণতন্ত্রের সুদৃড়তা নিশ্চিত করতে হবে। ফিরিয়ে আনতে হবে হারানো গণতন্ত্র।
চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে মওদুদ বলেন, এ সংগ্রাম চিরন্তণ, একে চালিয়ে যেতে হবে। তাতে সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে অংশগ্রহণ করাতে হবে। আর তাতে নেতৃত্ব দিবেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয় বরং দেশের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে আন্দোলন চলছে একথা দেশের মানুষকে বুঝাতে হবে। নাহলে সরকার বিরোধী এ আন্দোলনে দেশের সাধারণ মানুষ কেন অংশ নিবে। মনে রাখবেন স্বৈরাচার এবং একদলীয় সরকার কখনই এদেশের মানুষের মনে স্থান করে নিতে পারেনি।
ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধানের সঞ্চালনায় বিএফইউজের সিনিয়র সহ-সভাপতি এম আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজ উদ্দিন আহমদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধূরী প্রমূখ।
এমএইচ





