বামদলগুলো মনে করে যে, বিএনপি একটি প্রতিক্রিয়াশীল দল, একটি রক্ষণশীল দল। তবে খালেদা জিয়ার ভাষায় এটা একটা লিবারেল ডেমোক্রেটিক দল। আর সেটা হয়ে থাকলেও তাদের (বিএনপির) বন্ধুত্ব ও দোস্তি ‘মৌলবাদী’ জামায়াতের সাথে। আর ভোটের কারণে হোক বা অন্য কোন কারণেই হোক জামায়াতের দিকেই বিএনপির এই ঝোঁক থাকবে। কমিউনিস্ট পার্টি থেকে শুরু করে অন্যান্য বামদলগুলো যতদিন পর্যন্ত বিএনপির সাথে দূরত্ব বজায় রাখবে এই অবস্থা চলতেই থাকবে।
বিশিষ্ট কলামিস্ট ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ এসব কথা বলেন। শনিবার (১৯ মার্চ) রাতে একটি বেসরকারী টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
মকসুদ বলেন, “হয়তো কিছু কিছু দল মনে করছেন, আওয়ামী লীগ একটি প্রগতিশীল দল, একটি অসাম্প্রদায়িক দল তাদের সাথেই থাকি। বাইরে মাঝে মাঝে সমালোচনা করবো, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিএনপি বিরোধী একটি শিবিরেই থাকবো।”
বর্তমান বাম রাজনৈতিক দলগুলোর এই অবস্থানের উল্লেখ করে আবুল মকসুদ বলেন, এর ফলে গণতান্ত্রিক আন্দোলন, গণতান্ত্রিক রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে জামায়াতসহ সব প্রতিক্রিয়াশীল ও মৌলবাদী দলের দিকেই ঝুঁকছে বিএনপি।
তিনি বলেন, এক সময়ে মস্কোর পরামর্শে ন্যাপ (মোজাফফর) ও কমিউনিস্ট পার্টি পর্যন্ত জিয়াউর রহমানের খাল খনন থেকে শুরু করে তার কর্মকাণ্ডের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তা না হলে প্রচন্ড জনপ্রিয় শাসক জিয়াউর রহমান অতিরিক্ত ডানপন্থী হয়ে যেতেন এবং এতে আওয়ামী লীগ ও বাম রাজনীতিরই ক্ষতি হতো।
আবুল মকসুদ বলেন, “বর্তমান বামদের বিচার বিবেচনা কি আমি জানিনা যদিও বহুকাল ধরে আমি বামদের সাথে চলাফেরা করে তাদেরকে আমি সাপোর্ট দিয়ে আসছি। কিন্তু তাদের যে রাজনৈতিক বিচক্ষণতা, এ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের এখন আর অস্পষ্টতা নেই এবং মানুষ বোঝেন যে তারা (বামরা) জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।”
একই টকশোতে ইংরেজি দৈনিক দি নিউ এজের সম্পাদক নুরুল কবীর বলেন, বেশিরভাগ আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য দুইভাবে স্ববিরোধী। “অন্য কোন প্রসঙ্গ যখন আসে তখন তারা বিএনপি সম্পর্কে বলেন, এটার কোন স্ট্যাটাসই নেই। এখানে একটি পার্লামেন্টারি গণতন্ত্র কায়েম আছে। সেখানে বিরোধী দল হলো জাতীয় পার্টি। আর প্রতিদিন তার বিরোধী দলকে বাদ দিয়ে তাদের ভাষায় বিএনপির বিরুদ্ধেই গালাগাল করে থাকে। এটার মধ্য দিয়ে তারাই প্রমাণ করেছেন এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশে আমরা চাই কি না চাই, উনারা (আওয়ামী লীগ) চান কি না চান, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং তার দোস্তদের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি।”
বিএনপির কাউন্সিলে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে চেয়ারপার্সন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান করাকে তামাশা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফের দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে নুরুল কবীর বলেন, “এই লোকগুলোর নির্লজ্জতা হচ্ছে এই জায়গায়-এই তামাশা আওয়ামী লীগ আগেও করেছে, ভবিষ্যতেও করবে। এই তামাশা বিএনপি একা করে নাই, কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগও করেছে এবং ভবিষ্যতের কাউন্সিল সেশনেও করবে।”
বেগম খালেদা জিয়াকে লেডি লাদেন হিসেবে আখ্যায়িত করে আওয়ামী লীগ নেতা বেগম মতিয়া চৌধুরীর দেয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে নুরুল কবীর বলেন, “আমি তার সাথে দ্বিমত পোষণ করি নানান কারণে। লাদেন আমেরিকার প্রোডাক্ট ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমেরিকার বিরুদ্ধে, আমেরিকার বন্ধুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন, সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছিলেন। সেই সংগ্রামের রুপ হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ এবং সেই সন্ত্রাসবাদের জন্য তাকে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে, আমেরিকার শত্রুতে পরিণত হতে হয়েছে। আমার মনে হয় না, আমেরিকার শত্রুতে খালেদা জিয়া বা তার বিএনপি এখনো পর্যন্ত পরিণত হয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম প্রসঙ্গে নুরুল কবীর বলেন, তিনি বলেছেন যে বাংলাদেশে পাকিস্তানি নেতৃত্ব আছে। এই কথার মতো কোন দায়িত্বহীন কথা হতে পারে না। তাহলে তাদের বিরুদ্ধেই সবার আগে রাষ্ট্রদ্রোহীতার মামলা হওয়া উচিত।
কবীর বলেন, “এই রকম উচ্চ শিক্ষিত লোকেরা যখন কেবলমাত্র আপন আপন দলের নেতা-নেত্রীদের সন্তুষ্ট করার জন্য এসব কথাবার্তা বলেন, তখন রাজনীতি কলুষিত হতে থাকে এবং অস্বচ্ছ হতে থাকে।”
১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিলে আওয়ামী লীগকে সংলাপে বসতে বেগম খালেদা জিয়ার আহবান জানানোর বিষয়ে নিউএজ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ কোন দিনও সংলাপে বসবে না যতক্ষণ পর্যন্ত বিএনপি ভুল ও ভয়ের রাজনীতি ত্যাগ না করবে।
“বিএনপির ভুলের কোন সীমা-পরিসীমা নেই এবং তার ভীতির যে পরিস্থিতি- তারা জনগণের পক্ষে তো দূরের কথা নিজেদের পক্ষে ঢাকা শহরে একটা প্রতিবাদ মিছিল সত্যিকার অর্থে করতে পারে না। বিএনপি যতক্ষণ পর্যন্ত শক্তিমত্তা দেখাতে না পারবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সরকার তার সাথে আলোচনায় বসবে না।”
কেবি





