বিচার বিভাগ এবং প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের বক্তব্য স্পষ্টত আদালত অবমাননা এবং সংবিধান লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ রোববার সকালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাঁর সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ফখরুল এ মন্তব্য করেন।

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ষোড়শ সংশোধনীর রায় ও রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বাংলাদেশে থাকার কোনো অধিকার নেই।

“ষোড়শ সংশোধনী মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত না এমন অনেক কথা তিনি অবজারভেশনে বলেছেন, প্রধান বিচারপতির কাজ রাজনীতি করা না। যে প্রধান বিচারপতি রাজনীতি করে সেটা তাঁর অযোগ্যতা” বলেন মানিক।

২৫ দিনে ৪০০ পৃষ্ঠার রায় কোনোভাবেই লেখা সম্ভব নয় দাবি করে মানিক বলেন, “উনি মাত্র ২৫ দিনের মধ্যে ৪০০ পৃষ্ঠার কথা লিখেছেন, যেটা ইমপসিবল (অসম্ভব), যেটা হতে পারে না। এটা তাঁর লেখা রায় মোটেও নয়।”

ওই সময় প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ করে সাবেক এই বিচারপতি বলেন, “সবচেয়ে বড় কথা, তুমি শুধু প্রধান বিচারপতির পদ ছাড়বা না, এই দেশ ছাড়তে হবে। এ দেশে থাকার কোনো অধিকার তোমার নাই। তুমি যখন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব স্বীকার করো না, যেটা বিশ্ববাসী স্বীকার করে।”

মানিকের ওই বক্তব্যের একদিন পর বিএনপির মহাসচিব বলেন, প্রধান বিচারপতির বিষয়টি জনগণ বিবেচনা করবেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সব বিচারপতির সর্বসম্মতিক্রমে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দিয়েছেন। এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলে, যে ভাষায় সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক কথা বলেছেন, তাতে মনে হয় না যে তাঁর বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতা ছিল।

ফখরুল আরো বলেন, আদালত নিয়ে এবং প্রধান বিচারপতিকে যে ভাষায় তিনি (মানিক) যা বলেছেন, তা স্পষ্টত আদালত অবমাননা এবং সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল।

এমবি