বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাওয়া আর ট্রাকের নিচে মাথা দেয়া একই কথা।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ভয়েস অব ডেমোক্রেসি বাংলাদেশ আয়োজিত ‘শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনকালীন সরকার : প্রেক্ষিত গ্রহণযোগ্য নির্বাচন’শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আয়োজক সংগঠনের ফেলো অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান রিন্টুর সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য ও স্বাধীনতা ফোরাম সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বীর উত্তম শহীদ জিয়া শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির, আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মাহফুজ কবির, শাহবাগ থানা কৃষক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, ঘুরে দাঁড়াও বাংলাদেশের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী প্রমুখ।

গয়েশ্বর বলেন, এবার নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি হয়নি। দিনের আলোতে যা হয়েছে, তা হলো সুন্দর। রাতের অন্ধকারে যা ঘটেছে, তা অজ্ঞাত। এসব কারণে মনে হয়, ভোট ডাকাতি হয়নি, ভোট চুরি হয়েছে। আমি আগেই বলেছি, দৃশ্যত ইলেকশন ইজ ফেয়ার, বাট রেজাল্ট ইজ আনফেয়ার। কারণ এ নির্বাচনের ফলাফলের যে ব্যবধান, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তবে সত্যি একদিন প্রকাশ হবেই। প্রমাণ হোক আর না হোক ওরা চোর। ফল ঘোষণাস্থল নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের বিভিন্ন কক্ষে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা অবস্থান নিয়েছিল বলে দাবি করেন গয়েশ্বর।

তিনি বলেন, ভোটের আগের রাতে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে কিছু বলা হয়েছিল। তিনি উত্তরে বলেছেন, আমি চুরিতে বিশ্বাস করি, আমি ডাকাতিতে বিশ্বাস করি না।

নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন কেন্দ্রের ভোটের হার বিশ্লেষণ করে গয়েশ্বর বলেন, সেখানে ৩৯% থেকে শুরু করে ৭৩% পর্যন্ত ভোট কাস্ট দেখানো হয়েছে। কিন্তু কোনো কেন্দ্রে সকাল ৯টার আগে ভোটার আসেনি, ধীরে ধীরে বেড়েছে। বিকাল ২/৩ টার পর ভোট কেন্দ্রগুলো খালি। আপনারা বলেন, যেখানে ৩৯% ভোট কাস্ট হয়েছে, সেখানে বাকি ভোটাররা কলেরায় মারা গেছে? আর যেখানে ৮৩% ভোট কাস্ট হলো, কীভাবে হলো, কোত্থেকে এলো? একটি কেন্দ্রে ৬০% উপরে যদি ভোটের হার হয়, তবে সেই কেন্দ্রে ভোট ৮টায় শুরু হলে বিকাল ৪টায় মধ্যেও সকল ভোট দেয়া সম্ভব হয় না। নারায়ণগঞ্জের ভোটের ফল আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, কাউন্সিলর আমরা বেশি পেয়েছি। তাদের ভোটের সাথে দলের মেয়র প্রার্থীর ভোটের ব্যবধানটা বেশি। এ হিসাবটা আমাদের দেখতে হবে। প্রত্যেকটা কেন্দ্রের ফলাফল, পোলিং এজেন্ট, প্রার্থীর সবার সাথে কথা বলিছি, আমরা যাচাই-বাছাই করছি।

বিএনপির এ নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাওয়া আর ট্রাকের নিচে মাথা দেয়া একই কথা। আত্মহত্যা মহাপাপ। আর শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাওয়া আরো মহাপাপ। শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাওয়া যাবে না। এরা আগে ডাকাতি করতো এখন কৌশল পাল্টিয়ে ভোট চুরি করছে। আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার ছাড়া হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাব না। আমাদের দরকার এমন একটি নিরপেক্ষ সরকার যারা হবেন অবসর প্রাপ্ত বিচারপতি। তারা অবসরে যাওয়ার পর কোন সরকারের কাছ থেকে সুবিধা নেয়নি।

সরকার নাসিক নির্বাচনে দৃশ্যমান কোনো দুর্ঘটনা করেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার তারা দিনে ডাকাতি করেনি। কিন্তু চুরি করেছে। চোরের অধীনে নির্বাচন করা আরো কঠিন। দিনের বেলায় ডাকাত আসলে তাদের কাছে অস্ত্র থাকলে প্রতিহত করার প্রস্তুতি রাখা যায় তবে চোর রাতে যখন আসে তখন আমরা ঘুমিয়েও থাকতে পারি।

তিনি বলেন, বিএনপি মরে যায়নি, পচেও যায়নি। ১৭ দিন নাসিকে গিয়েছিলাম, যেখানেই গিয়েছি দেখেছি বিএনপি আর বিএনপি।

এত চুরি, খুন, লুটপাট করার পর তারা এত জনপ্রিয়! মূলত প্রহসন করে তারা বিশ্বকে বুঝাতে চেয়েছে আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারি, আমরা জনপ্রিয়। তাই দৃশ্যমান কিছু করেনি। রাতের অন্ধকারে চুরি করেছে।

এমই