করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাবেক সভাপতি ও এনটিভির যুগ্ম প্রধান বার্তা সম্পাদক আব্দুস শহীদ ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ (২৩ আগস্ট) রোববার সাংবাদিক আব্দুস শহিদের মৃত্যুর সংবাদ শুনে তাৎক্ষণিক শোক প্রকাশ করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

এক শোকবার্তায় মির্জা ফখরুল বলেন, “আবদুস শহিদ সাংবাদিকতা জীবনে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে এবং সামাজিক অবক্ষয় ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলমযোদ্ধা হিসেবে সাংবাদিক সমাজে ছিলেন আদর্শস্থানীয়। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও যুগ্ম প্রধান বার্তা সম্পাদক হিসেবে তিনি তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে পালন করে গেছেন।”

বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, “আবদুস শহিদ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেও দেশের মানুষ ও সাংবাদিক মহলে চিরন্তন হয়ে থাকবেন। দেশের মানুষ, সুহৃদ ও সাংবাদিক ভাইদের পাশাপাশি আমিও তাঁর মৃত্যুতে গভীরভাবে সমব্যথী।”

রোববার বেলা পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে সাংবাদিক আব্দুস শহিদের মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। তিনি স্ত্রী ও এক ছেলে রেখে গেছেন।

আব্দুস শহীদ করোনায় আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছুদিন ধরে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউতে) চিকিৎসাধীন ছিলেন।

১৯৫৭ সালে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ গ্রামে আব্দুস শহিদের জন্ম হয়।তিনি দৈনিক দিনকালের চিফ রিপোর্টারের দায়িত্বে ছিলেন। পরে তিনি এনটিভিতে শুরু থেকে যোগ দেন। আব্দুস শহীদ জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য ছিলেন।

গত ২৫ জুলাই আবদুস শহিদের করোনাভাইরাসজনিত কোভিড-১৯ রোগ শনাক্ত হয়। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় ২৭ জুলাই তাঁকে রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ২৮ জুলাই তাঁকে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তাঁর মৃত্যু হয়।

লক্ষ্মীপুরে গ্রামের বাড়িতে আব্দুস শহিদ তাঁর মা-বাবার নামে আফিয়া-বারী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেন।

এমবি