আল-কায়েদা নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরির দেওয়া কথিত ভিডিও বার্তার সঙ্গে হেফাজতে ইসলাম-বাংলাদেশ’র কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির নেতারা। শনিবার রাতে হেফাজতে ইসলামের আমীর মাওলানা শাহ আহমদ শফী ও মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীর পক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আল কায়দার অডিও বার্তা বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের অবস্থান তুলে ধরা হয়।
বিবৃতিতে মাওলানা আহমদ শফীর বক্তব্যের উদ্বৃত্তি দিয়ে বলা হয়, কে বা কারা কোন উদ্দেশ্যে এই ভিডিও বার্তা প্রচার করেছে তা আমাদের জানা নেই। আমাদের সন্দেহ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বসহ দেশের মুসলমানদের বিরুদ্ধে এই অডিও বার্তা নতুন কোন ষড়যন্ত্র হতে পারে।
হেফাজত নেতারা বিবৃতিতে বলেন, ‘ঈমান-আক্বিদার সুরক্ষা, ইসলাম অবমাননা রোধ ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অরাজনৈতিক অবস্থানে থেকেই জনতাকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও ১৩ দফার আন্দোলন করে যাচ্ছে হেফাজতে ইসলাম। এই সংগঠনের রাজনৈতিক কোন উদ্দেশ্য নেই।’
হেফাজত নেতারা আরও বলেন, ‘শাপলা চত্বরের ট্রাজেডিসহ সরকারের নানা জুলুম-অত্যাচার, হামলা-মামলা, গ্রেফতার ও হয়রানি-উস্কানি সত্ত্বেও কোনো বিশৃঙ্খলা বা ভাঙচুরের সাথে না জড়িয়ে চরম ধৈর্য্যরে পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে হেফাজতে ইসলাম। অথচ হেফাজতে ইসলামকে অরাজনৈতিক শান্তিপূর্ণ অবস্থান থেকে লক্ষ্যচুত করার জন্য নানা অপবাদ ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে উস্কানিমূলক ষড়যন্ত্র একের পর এক চলছেই।’
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশ ও জাতির অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করার কারণেই জুলুম-অত্যাচার, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, পাপাচার ও ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছে দেশের আলেম সমাজ ও কওমী মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকরা। এই কারণেই বিভিন্ন সময় সন্ত্রাস ও কথিত জঙ্গিবাদের সাথে কওমী মাদ্রাসা ও আলেমদের জড়িয়ে মিথ্যাচার করে এদেশ থেকে ইসলামী শিক্ষা ও মুসলিম চেতনাবোধ ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে ষড়যন্ত্রকারী মহল।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই আল-কায়েদা বা জাওয়াহিরির নাম বলে ভিডিও বার্তা প্রচার করা হচ্ছে। এই ভিডিও বার্তার সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই।
মাদ্রাসা শিক্ষা ও আলেমদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ইহুদি লবির পাশাপাশি প্রতিবেশি বৃহৎ একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থাসহ অনেকেই জড়িত আছে বলে হেফাজতে ইসলামের বিবৃতিতে দাবি করা হয়।
[b]ঢাকা, ১৬ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // কে বি [/b]