৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর আবারও রাজপথে সরব বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট। ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে ১৬ আগস্ট রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে কালো পতাকা মিছিল এবং ১৯ আগস্ট জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার প্রতিবাদে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ২০ দলীয় জোটের প্রতিবাদ সমাবেশের মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীদের চাঙ্গাভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, পর পর দুটি কর্মসুচি আশাতীত সফল হওয়ায় স্বস্তিতে রয়েছেন বিরোধী জোটের নীতি নির্ধারকরাও।
নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সব দলের অংশ গ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবীতে এখনো অনড় ক্ষমতার বাইরে থাকা দেশের রাজনৈতিক দলগুলো।
৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি দ্রুত নির্বাচনের আহ্বান জানানো হলেও সরকারের আন্তরিকতা না দেখে বিএনপি চেয়ারপারসন ও জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ জোটের সব শীর্ষ নেতাই ঈদের পর কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন।
কিন্তু ঈদের পর কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি না থাকলেও চলতি সপ্তাহের দুটি কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দলের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছেন- দলের নেতারা এমনটাই মনে করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে এসব জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে বিরোধী জোটের চলমান আন্দোলনের পালে আবারো হাওয়া বইতে শুরু করেছে।
এদিকে চলতি মাসে বড় ধরনের কোনো সভা-সমাবেশের মত কর্মসুচি না থাকলেও ২১ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী জনসংযোগ কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে কয়েকটি টিমের মাধ্যমে দেশের সব কয়টি জেলায় সফর করবেন ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। এই জনসংযোগ কর্মসূচিতে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় নেতারাও অংশ নিবেন
এসময় পথসভা ও কর্মী সভার মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীকে আন্দোলনে জোরালো ভূমিকা রাখার পাশাপাশি সাধারন জনগণকে আগামী দিনের আন্দোলনে সম্পৃক্ত করণের ওপর জোর দেয়া হবে।

এছাড়াও এসব কর্মসুচিতে সরকারের বড় ধরনের ব্যর্থতা বিশেষ করে- পদ্মা সেতু দুর্নীতি, হল-মার্ক কেলেঙ্কারী, সোনালী ব্যাংকসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হাজার কোটি টাকা লুটপাট, সরকার ও সরকারদলীয় লোকজনের দুর্নীতি, লুটপাট, টেন্ডার সন্ত্রাস, দখল বাণিজ্যসহ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্বে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে নেওয়া, বাক স্বাধীনতা হরণের জন্য সম্প্রচার নীতিমালা বাস্তবায়নসহ সরকারের বিভিন্ন নেতিবাচক দিক গণসংযোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরবে বিরোধী জোট।
বিএনপি দলীয় সুত্রে জানা গেছে, শান্তিপূর্ণ এসব গণসংযোগ কর্মসুচিতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেয়া হলে স্থানীয়ভাবে বিক্ষোভ কিংবা হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দলের চেয়ারপারসনের উপস্থিতিতে ঢাকার বাইরে কয়েকটি বিভাগীয় শহরে বড় ধরনের সভা-সমাবেশ করার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। এরপর অক্টোবরের প্রথম দিকে রাজধানীতে ২০ দলীয় জোটের উদ্যোগে মহাসমাবেশ করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। এই সমাবেশ থেকে আবারো নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার দাবী জানিয়ে বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে আল্টিমেটাম দেওয়া হবে।
সরকার দাবী না মানলে দল ও জোটের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। এরপরেই জোটের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত আন্দোলনের দিকে হাঁটবে সরকার বিরোধী ২০ দলীয় জোট। এসময় টানা হরতাল, অবরোধ বা অসহযোগের মত কর্মসূচি আসতে পারে। বিরোধী জোটের সূত্রে এমন আভাসই পাওয়া গেছে।
বিএনপি নেতারা মনে করেন দেশের জনগণ আগের চেয়ে এই সরকারের প্রতি আরও অতিষ্ট হয়ে আছে। কারণ দিন দিন সরকার জনগণের মতামতকে তোয়াক্কা না করে একদলীয় শাসনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে এখন বাক স্বাধীনতা হরণের জন্য নতুন নতুন আইন করছে। তাই নেতাদের আশা করছেন এবারের আন্দোলনে অতীতের চেয়ে দেশের জনগণ স্বতস্ফুর্তভাবে অংশ নিবে।
তবে সরকার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠবে সেই আশঙ্কাও মাথায় রাখছেন বিএনপিসহ জোট নেতারা। তাই এবার দল গুছিয়ে পূর্ণাঙ্গ শক্তি নিয়ে রাজপথে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে প্রস্তুত বিরোধী জোটের নেতৃবৃন্দ।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবর রহমান টাইমনিউজবিডি.কমকে বলেন- বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট আন্দোলনে ছিল। গণতন্ত্র রক্ষার জন্য মানুষের ভোটের অধিকারসহ অন্যান্য অধিকার আদায়ে এবারের আন্দোলন চুড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে সব ধরনের কর্মসূচি দেয়া হবে। তবে সেটা নির্ধারন করবেন দলের চেয়ারপারসন। বর্তমানে আমাদের দেশব্যাপী জনসংযোগ কর্মসূচি চলছে। এটি চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। এরপরেই আগামী দিনের কর্মসূচি আসবে।
বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও সাবেক বিরোধী দলের চীপ হুইপ জয়নাল আবদীন ফারুক টাইমনিউজবিডি.কমকে বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশ ও দেশের জনগণ এবং গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। সেই আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে দেশব্যাপী জনসংযোগ কর্মসুচি চলছে। এর মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারন জনগনকে আগামী দিনের আন্দোলনে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করা হবে।
দাবী আদায়ে কঠোর কোনো কর্মসূচি দেয়া হবে কি না এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গণতন্ত্র রক্ষার জন্য প্রয়োজনে যে কোনো কর্মসূচি দেয়া তবে সেটি কবে তা সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।
ঢাকা, এমএইচ, ২২ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, কেবি





