পাঁচ জানুয়ারি ২০ দলীয় জোটের পূর্ব ঘোষিত 'গণতন্ত্র হত্যা ও কালো দিবস' উপলক্ষে জন সমাবেশের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সারা দেশে শুরু হয়েছে ব্যাপক ধরপাকড়। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দূরপাল্লার সকল প্রকার যানবাহন ও লঞ্চ চলাচল।
এদিকে রাজধানীতে বন্ধ রয়েছে সকল প্রকারের পরিবহণ। এতে দূর্ভোগে পড়েছেন সব শ্রেনী-পেশার মানুষ।
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিনিধিদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী দেশব্যাপী বিরোধী নেতা-কর্মীদের ধর-পাকড়ের চিত্র তুলে ধরা হলো:
ভোলা: ভোলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২১ জন বিএনপির কর্মী ও তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। এ সময় সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। শহরের মহাজন পট্টি এলাকায় সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখা ও দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে একটি মিছিল বের হলে পুলিশ বাধা দেয়। ওই সময় পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এ সংর্ঘষের ঘটনায় ঘটে।
চাঁদপুর: চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ২১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল ৯টায় পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটক নেতাকর্মীদের মধ্যে একজন জামায়াত ও ২০ জন বিএনপি নেতাকর্মী রয়েছে।
এদের মধ্যে চাঁদপুর মডেল থানা ৪ জন, ফরিদগঞ্জে ৬, হাজীগঞ্জে ২, কচুয়ায় ৪, মতলব উত্তরে ২ ও শাহরাস্তি থেকে ৩ জনকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, ৫ জানুয়ারির সমাবেশকে কেন্দ্র করে যে কোনো সময় তারা নাশকতা করতে পারে। এ কারণে জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এসব নেতাকর্মীদের আটক করা হয়।
নড়াইল: নড়াইলে নাশকতার আশঙ্কায় বিএনপি-জামায়াতের ৭ কর্মীকে আটক করেছে সদর থানা পুলিশ। সোমবার সকালে তাদের আটক করা হয়। পুলিশ কন্ট্রোল রুম সূত্র থেকে জানা গেছে, সকালে নড়াইল সদরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জামায়াতের ৪ ও বিএনপির ৩ কর্মীকে আটক করা হয়েছে।
নোয়াখালী: ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে নাশকতার আশঙ্কা ও সব ধরনের নাশকতা এড়াতে নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিএনপির ১৬ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পাবনা: নাশকতার আশঙ্কায় পাবনা জেলার ১১টি থানায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার রাতভর এ অভিযান চালানো হয়। সোমবার সকাল ৯টায় আটক সবাইকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ঝিনাইদহ: বিভিন্ন উপজেলা থেকে নাশকতার অভিযোগে বিএনপি-জামায়াতের ২৭ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার ভোর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের আটক করে। শৈলকূপা থানার উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান জানান, সোমবার সকাল ৮টার দিকে বিএনপি নেতাকর্মীরা উপজেলার গাড়াগঞ্জ বাজারে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এই সময় নাশকতার আশঙ্কায় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং আটক করে।
মানিকগঞ্জ: ননাশকতার আশঙ্কায় মানিকগঞ্জের ছয় উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বিএনপির ২৫ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার মধ্যরাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়। এদের মধ্যে রয়েছেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় ৪, সিংগাইরে ১৩, ঘিওরে ৩, হরিরামপুরে ৩, এবং দৌলতপুর ১,ও সাটুরিয়ায় ১জন।
রাজশাহী: সোমবার সকাল ৬টার দিকে নগরীতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আগুন দেয়ার ঘটনায় ১৪ বিএনপি ও জামায়াত-শিবির কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আটককৃতদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।
এছাড়া, রাজশাহী মহানগরীর কাটাখালিতে সাংসদ আয়েন উদ্দিনের জনসভায় ককটেল হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে।
সোমবার দুপুর একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।আটককৃতরা হল রাজশাহী মহানগরীর নওদাপাড়া এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে শাকিল (১৯) এবং পশ্চিম বুধপাড়া এলাকার রিফাত হোসেনের ছেলে শাকিল (২২)।
মেহেরপুর: মেহেরপুরের গাংনী ও মুজিবনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে বিএনপির ১০ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার রাতভর অভিযান চালিয়ে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার নিশিপুর গ্রামে বিএনপির ১০ কর্মীকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে রয়েছেন, এনামুল হক (৫০), ধলা পশ্চিমপাড়া এলাকার সামসুল হক (৪৫), গাঁড়াডোব কুঠিপাড়ার সাবারুল ইসলাম (২৬), একই গ্রামের পুকুরপাড়ার আব্দুস সালাম (২৭), ধানখোলা গ্রামের আব্দুল কুদ্দুছ (৫৮) ও মাইলমারী গ্রামের সেকেন্দার আলী (৩৫) এবং মুজিবনগর উপজেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামের মিজানুর রহমান (৩৮), আলিমুল ইসলাম (৩২), আতাবুল ইসলাম (২৮) ও একই গ্রামের আব্দুল আজিজ (৫৬)।
খুলনা: খুলনায় জামায়াত-শিবিরের ৫নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার রাত পৌনে ১২টার দিকে নগরীর পশ্চিম টুটপাড়া মাওলার মোড়ের একটি বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন- শিবির কর্মী আব্দুল আলিম, সাজিদ ও মানাজির এবং জামায়াত নেতা ওলিউর রহমান ও আব্দুল কাদের।
কক্সবাজার: নাশকতার আশঙ্কায় ২য় দফায় কক্সবাজারে ২০ দলীয় জোটের আরো ১৪ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কক্সবাজার সদর, রামু, উখিয়া, চকরিয়া, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে ২ জন জামায়াতের কর্মী আর বাকি ১২ জন বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী।
যশোর: যশোরে বিএনপি-জামায়াতের ৩৯ কর্মীসহ ৮১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার রাতভর জেলার আট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। যশোর জেলা পুলিশের মুখপাত্র এএসপি রেশমা শারমীন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপির ২৯ ও শিবিরের ১০ কর্মী রয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন মামলার আসামি।
কুষ্টিয়া: নাশকতার আশঙ্কায় জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ২৩ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার রাতভর অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, নাশকতার আশঙ্কায় সদর থানা পুলিশ ১০, কুমারখালী থানা পুলিশ ২, খোকসা থানা পুলিশ ২, মিরপুর থানা পুলিশ ১, ভেড়ামারা থানা পুলিশ ১, ইবি থানা পুলিশ ৩ ও দৌলতপুর থানা পুলিশ ৪ বিএনপি নেতাকর্মীকে আটক করেছে।
মাদারীপুর: জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহান্দার আলি জাহানসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার গভীর রাতে মাদারীপুর পৌরসভার চৌরাস্তা এলাকার নিজ বাড়ি থেকে জাহানকে, শহরের জেলখানার কোনা এলাকা থেকে পৌর ছাত্রদলের প্রাক্তন আহ্বায়ক মনিরুজ্জান ফকুকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়াও জেলার শিবচর উপজেলার এক নেতাকে আটক করা হয়। নাশকতার আশঙ্কায় তাদের আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মাদারীপুর জেলা পুলিশ সুপার খোন্দকার ফরিদুল ইসলাম।
মাগুরা: নাশকতা সৃষ্টির আশঙ্কায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি ও জামায়াতের ১১ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার রাতে মাগুরা সদর, শালিখা, শ্রীপুর ও মহম্মদপুর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন, মাগুরা পৌর ছাত্রদলের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আছাদুজ্জামান তুহিন, সদর উপজেলার চাউলিয়া ইউপি বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাফর ইকবাল, রামদেবগাতির বিএনপি সদস্য সালাম মোল্যা, শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল এলাকার বিএনপি সদস্য টিপু সুলতান, খামারপাড়ার বিএনপি সদস্য লুৎফর রহমান ও অলিয়ার রহমান। মহম্মদপুর উপজেলার সিরগ্রামের বিএনপি সদস্য সাজ্জাদ হোসেন, পলাশবাড়িয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সদস্য মিজানুর রহমান, বড়রিয়ার বিএনপি সদস্য নূরুল ইসলাম ও শালিখা উপজেলার শতখালী এলাকার জামায়াত কর্মী কাইয়ুম আলীসহ ১১ নেতাকর্মী।
এমকে





