জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ডের প্রতিবাদে ও দুই দিনের হরতালের সমর্থনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির।
বুধবার সকাল ১১টায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিল বিভাগের রায়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত-শিবির এ বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
শাহজাদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াত। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে গুলশান লিংক রোডে এসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দীন, তিনি বলেন, সরকার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে জনপ্রিয় জাতীয় নেতাদের নির্মমভাবে হত্যা ও হেনস্তা করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। সে ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় বিশ্ববরেণ্য মুফাসসিরে কুরআন ও নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ শীর্ষ নেতাদের অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ করে জুলুম-নির্যাতন চালানো হচ্ছে। সরকার মিথ্যা সাক্ষী ও ভূয়া তথ্য-ঊপাত্তের মাধ্যমে সরকার মহামান্য আদালত, জনগণ ও গণমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করেছে। ফলে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে যে দন্ডাদেশ হয়েছে তার মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তিনি অবিলম্বে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজা বাতিল করে তাকে সসম্মানে মুক্তি দেয়ার আহবান জানান।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ড. মু. রেজাউল করিম, ঢাকা মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য এ এস এম আলাউদ্দীন, মহানগরী মজলিশে শুরা সদস্য অধ্যাপক আ জ ম কামাল উদ্দীন, সালাহউদ্দীন ও নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ছাত্র নেতা রাকিব মাহমুদ, বিশ্বাস ও তারেক প্রমূখ।
হরতালের সমর্থনে মগবাজার চৌরাস্তায় মিছিল করেছে রমনা থানা জামায়াত। থানা জাময়াতের কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে বুধবার বিকাল ৫টায় অনুষ্ঠিত মিছিলে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রমনা থানা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ইউসুফ আলী মোল্লা, গোলাম কিবরিয়া ও জামায়াত নেতা আসগর আলী প্রমুখ।
রায়ের প্রতিক্রিয়া ও হরতালের সমর্থনে মিরপুর এলকায় মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী মিরপুর জোন। মিছিলটি গুরত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিন করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে নেতৃত্ব দেন মহানগরী জামায়াত নেতা মোবারক হোসেন ভূইয়া।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সিদ্দিকবাজার এলাকায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়া হয়ে সুরিটোলা স্কুলের সামনে দিয়ে বংশাল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস ফকির জানান, জামায়াতের কয়েকজন লোক মিলে একটি মিছিল বের করেছিল। তবে পুলিশ দেখে তারা আগেই সরে গেছে। তারা কোনো ভাঙ্চুর অথবা কোনো গন্ডগোল করতে পারেনি।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় গুলশান জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন নেতাকর্মীরা। তবে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এ প্রসঙ্গে গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, জামায়াতের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এসময় তারা পুলিশকে ঠেলে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যেতে চাইলে তাদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। মিছিল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





