ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুতে অং সান সুচিকে সমর্থন করায় বিএনপি বিস্মিত ও হতবাক বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ভারতের মতো একটি গণতান্ত্রিক দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা-নির্যাতনে সমর্থন দেয়ায় আমরা বিস্মিত হয়েছি, হতবাক হয়েছি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যাযজ্ঞ বন্ধের দাবিতে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন সুপরিকল্পিত। এদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।
শান্তিতে নোবেল পাওয়া অং সান সুচির সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, তিনি (অং সান সুচি) এক সময় গণতন্ত্রের জন্য সবার মডেল ছিলেন। কিন্তু ম্যান্ডেলার মতো সুচি আন্তর্জাতিক সীমারেখা অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
রোহিঙ্গা নির্যাতনের চিত্রকে নতুন কারবালা বলে মন্তব্য করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, মিয়ানমারে মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন ও হামলায় আমরা উৎকণ্ঠিত।
সমগ্র বিশ্ববিবেক প্রতিবাদে জাগ্রত কিন্তু বর্তমান সরকারের কোনো জোরালো অবস্থান, কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নাকি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অথচ বাস্তবে আমরা দেখতে পাচ্ছি সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেই। নেই কূটনৈতিক তৎপরতা।
তারা শুধুমাত্র দায়সারাভাবে রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কিছু কথা বলে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। কারণ,বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার গণবিরোধী। জনগণের রায়ে নির্বাচিত নয়।
জনগণের ভোটে যদি নির্বাচিত সরকার হতো তাহলে রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতো। আশ্রয়ের পরিবর্তে বন্দুক হাতে দাঁড়িয়ে থাকতো না।
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি ছেড়ে ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান রুহুল কবির রিজভী।
জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজীজ উলফাতের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সহ-সভাপতি সাহিদুর রহমান তামান্না।





