প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্কে ফাটল না ধরানোর জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
গতকাল সোমবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে মঙ্গলবার বিকালে ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, গতকাল সোমবার খালেদা জিয়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে বলেছেন বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সাথে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী একত্রিত হয়ে সাতক্ষীরায় মিলিটারি অভিযান চালিয়েছে এটা তার ডাহা মিথ্যা কথা। মিথ্যাচার করে তিনি (খালেদা জিয়া) প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধ চান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, দৈনিক ইনকিলাব ও খালেদার মত লিখেছিলেন বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সাথে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী একত্রিত হয়ে সাতক্ষীরায় মিলিটারি অভিযান চালিয়েছে। পরে ইনকিলাব বলছে এটার প্রমাণ তাদের কাছে নেই এবং এর জন্য তারা ক্ষমাও চেয়েছেন। তারা যেহেতু ক্ষমা চেয়েছে খালেদা জিয়াকেও এ বক্তব্যের জন্য আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিদেশীদের চাপে সুপরিকল্পিতভাবে বিএনপি জামায়াত-শিবিরকে আড়াল করতে চায়। তাই তার গতকাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তাদের গণসমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের আড়াল করে রেখেছেন। কিন্তু সেখানে শিবিরের ক্যাডাররা অস্ত্র হাতে উপস্থিত ছিল। আমাদের কাছে এর প্রমাণ আছে। খালেদা জিয়া শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেছেন।
তিনি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম খালেদা তার মিথ্যাচার ছেড়ে জামায়াতের ক্যাডারদের হত্যা, বোমাবাজি, সন্ত্রাস ব্ন্ধ করতে আহ্বান জানাবেন। কিন্তু তিনি তা না করে উল্টো সন্ত্রাসীদের আড়াল করার চেষ্টা করেছেন।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া যদি সত্যিকারের রাজনীতি করতে চান তাহলে স্থায়ীভাবে জামায়াত-শিবিরকে বাদ দিতে হবে।
খালেদা জিয়াকে জঙ্গিদের প্রধান সেনাপতি উল্লেখ করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, খালেদা জিয়ার মদদেই দেশে জঙ্গীবাদের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জঙ্গিদের দিয়ে সারাদেশে নাশকতা চালাচ্ছেন।
তিনি বলেন, দেশে যত হত্যাযজ্ঞ, খুন হয়েছে তার বেশিরভাগই খালেদা জিয়ার আমলে হয়েছিল। ২১ আগষ্ট তিনি গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল। এরপর তদন্তের নামে জজ মিয়া নাটক সাজিয়েছেন।
এ সময় আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির নেত্রী এই সরকারকে অবৈধ বলেন। আবার এ সরকারের সাথে আলোচনাও চান।
আশরাফ বলেন,বিএনপি দু'মাথাওয়ালা রাজনৈতিক দল। তাদের লেজ কোনটা আর মাথা কোনটা।তা জানতে চায় দেশবাসী। তারেক জিয়া বলেন আলোচনা হবেনা আর বেগম জিয়া বলেন আলোচনা হবে। তাদেরকে পরিস্কার করতে হবে দলের হাইকমান্ডকে। কার কথা আসল কথা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য নূহ-উল- আলম লেলিন,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক বাহা উদ্দিন নাসিম,দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ।