গত ১০ ডিসেম্বর থেকে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গিয়ে ঢাকা-১৫ আসনে এ পর্যন্ত নারীসহ ১১ জনকে গুম করেছে প্রশাসন। পাশাপাশি আটক করা হয়েছে প্রায় দু'শতাধিক নেতাকর্মী। আর এসব গুম ও আটককে প্রধান নির্বাচনী কৌশল হিসেবে ব্যবহার ও ইন্ধন দিচ্ছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ প্রার্থী কামাল আহমেদ মজুমদার।
গতকাল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমনই অভিযোগ করেন স্থানীয় আসনের ঐক্যফ্রন্ট প্রাথী ডা. শফিকুর রহমান।
ধানের শীষ প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমানের মিডিয়া সেলের সমন্বয়ক আতাউর রহমান সরকারের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠে জিততে বিরোধী প্রার্থীর কর্মীদের গ্রেফতার ও গুমের কৌশল নিয়েছে আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী কামাল আহমেদ মজুমদার। সারাদেশের মত এই আসনেও বিরোধী প্রার্থীর নেতা-কর্মীদের অব্যাহতভাবে গ্রেফতার ও গুম কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন।
ভোটের মাঠে বিরোধী নেতা-কর্মীরা প্রচার-প্রচারণা চালাতে গিয়ে মামলা হামলার শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এখন পর্যন্ত প্রায় ২ শতাধিক নেতাকর্মী আটক করা হয়েছে। গুমের শিকার হয়েছেন নারীসহ ১১ জন।
গুমের শিকার হওয়ারা হলেন, আমীর হামজা সোহাগ, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. আব্দুল হালিম, নজরুল ইসলাম, পিতা- আলী হাসান, নজরুল ইসলাম, পিতা-শফির উদ্দিন, নারী ভোটকর্মী সেলিনা বেগম ও আবিদা বেগম, ইঞ্জিনিয়ার আরিফ, মোতাহের হোসেন তুহিন।
সর্বশেষ গত ২০ ডিসেম্বর জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারী ড. রেজাউল করিম ও তার ড্রাইভার মুহিবুল্লাহ নিখোঁজ হওয়ার ৩ দিন পেরিয়ে গেলেও তার সন্ধান দেয়নি আইনশৃংঙ্খলা বাহিনী।
তিনি ঢাকা-১৫ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও জামায়াতের সেক্রেটারী জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে ভূমিকা রাখছিলেন। এছাড়াও গত ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর মিরপুর ১০ গোলচক্করে প্রচারণা চালাতে গিয়ে আটক হন জামায়াত আহসান উল্লাহসহ ৮ জন। কিন্তু যথাসময়ে কোর্টে হাজির না করে ১৭ ডিসেম্বর মোল্লাপাড়ায় রাতের আধাঁরে আ.লীগ কার্যালয়ে দুর্বৃত্তের হামলার ঘটনায় তাদেরকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এতে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ঘটনার ৪/৫ দিন আগে আটক ব্যক্তি কিভাবে আ.লীগ অফিসের হামলায় অংশ নিলেন?
এই আসনের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালানোর সময় আ.লীগ নেতা-কর্মীরা ধানের শীষের কর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে পুলিশে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। যা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। ধানের শীষের নারী ভোটকর্মীদের বিভিন্ন এলাকায় অবরুদ্ধ করে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করছেন সরকারদলীয় প্রার্থী। এমনকি ধানের শীষ প্রার্থীর সমর্থক কর্মীদের বাসা-বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছে।
এর আগে কামাল মজুমদার ধানের শীষ প্রার্থী ও নেতা-কর্মীদের মাঠে নামলে হাত-পা ভেঙ্গে দেয়া ও একটা একটা করে ধরে আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়ার হুমকি দিয়ে বক্তব্য দেয়ায় ডা. শফিকুর রহমান তার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লংঙ্ঘন ও সম্মানহানির অভিযোগ করলে, আদালত তাঁর বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে, যেখানে ২৩ তারিখের মধ্যে স্বশরীরে আদালতে হাজির হয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)
জেড





