বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে অযোগ্য করতে সরকার উঠে পড়ে লেগেছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, সেজন্য তার বিচারের জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনালের কথা বলা হচ্ছে। অর্থাৎ তাকে (খালেদা জিয়া) মিথ্যো মামলায় ফাঁসানো জরুরী হয়ে পড়েছে। কারন তিনি নির্বাচনে অংশ নিলে আওয়ামী লীগের জেতার সম্ভাবনা নেই।

শুক্রবার খিলগাঁওয়ের শাহজাহানপুরে মাহবুব আলী মিলনায়তনে শ্রমিক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এই সরকারের জনপ্রিয়তা এতই কমে গেছে যে তারা এখন নির্বাচন দিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। কারন তারা জানে নির্বাচন দিলে বিএনপি অংশ নেবে, তখন তাদের জেতার কোনো চান্স (সম্ভবনা) থাকবেনা। এজন্য খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যো মামলা দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর ডেমরায় কে গাড়ি পোড়ালো সেজন্য বিএনপি নেত্রীর নামে মামলা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনকে দায়ী করার জন্য প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে তার দলের লোকজন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারের কথা বলছে। কারন খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ না নিলে তাদের জেতার সম্ভবনা বাড়ে। সেজন্য তাকে সাজা দিয়ে সরকার খালি মাঠে গোল দিতে চায়।

সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, এদেশের রাজনীতির মাঠে খেলোয়ার শুধু আওয়ামী লীগ বা বিএনপি নয়। মুল খেলোয়ার জনগণ। তারা যখন মাঠে নামবে তখন কোনো খেলোয়ারের খোঁজ থাকেনা।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ কারাগারের আটক সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঈদের আগে মুক্তি দাবি করে নজরুল ইসলাম বলেন, উচ্চ আদালত থেকে মির্জা আলমগীর, রিজভী আহমেদকে মুক্তি দেওয়া আদেশ দিলেও সরকার কৌশলে তাদের আটকে রাখতে চাইছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘গম দুর্নীতিসহ সরকারের মন্ত্রীকের বিভিন্ন দায় থাকা স্বত্তেও মন্ত্রীত্ব যায়না সেখানে আশরাফ সাহেবের মন্ত্রীত্ব হারানো কোনো বিশেষ বার্তা নয়।’

ঈদের আগে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওয়া বুঝিয়ে দিতে মালিকদের প্রতি আহবান জানান সাবেক শ্রমিক দলের এই সভাপতি।

ইফতার মাহফিলে অন্যদের মধ্যে শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, শ্রমিক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি কাজী মো. আমির খসরু, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম বাদল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ/এসএইচ