বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান ও ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষনেতা জেবেল রহমান গানি বলেছেন, ফারাক্কা সমস্যা সামাধানে ব্যর্থ সরকার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে ব্যর্থ হচ্ছে। তেমনি ভারতও উজানের রাষ্ট্র হিসাবে ভাটির দেশ বাংলাদেশের সাথে সৎ প্রতিবেশী হিসাবে আচরন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

শুক্রবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ফারাক্কা লংমার্চের ৩৯তম বার্ষিকী স্মরণে ন্যাপ ঢাকা মহানগর আয়োজিত ‘ভারতের পানি আগ্রাসন: আমাদের করণীয়’-শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, যে সরকার ভারতের পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারে না, দেশের জনগনের কল্যাণ ও জনগনের মৌলিক চাহিদা পুরন করতে পারে না তাদের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই।

তিনি বলেন, ফারাক্কা, টিপাইমুখসহ ভারতের অব্যাহত পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক, জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক শক্তির জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর পদর্শিত পথই হচ্ছে ভারতের অব্যাহত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পথ।
আওয়ামী লীগের দাসসূলভ আচরনের কারনেই ভারত পানি আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, জাতি হিসাবে আমরা দুর্বল নই। যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি, লড়াই করে গণতন্ত্র রক্ষা করবো-ভারতীয় আগ্রাসন রুখবো।

এনডিপি চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা বলেন, ফারাক্কা বাঁধের ফলে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলকে মরুভূমিতে পরিনত করেছে এবং টিপাইমুখ বাঁধ নির্মানের মাধ্যমে আবারো দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মরুভূমিতে পরিনত করার যে ষড়যন্ত্র করছে তার বিরুদ্ধে দেশের সকল দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ ভারতের পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ। ভারত মূলত দুটি উদ্দেশ্যে পানি আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে। এর একটি হচ্ছে রাজনৈতিক কারনে পানিকে ব্যবহার করা আর রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশকে ব্যর্থ ও পঙ্গু রাষ্ট্রে পরিনত করা।

তিনি আরও বলেন, ভারত যা বলে তা করে না, যা করে তা বলে না। আওয়ামী-বাকশালী চক্র ভারতের সাথে যতগুলো চুক্তি করেছে সবগুলো জাতীয় স্বার্থ বিরোধী। বর্তমান সরকার সাম্রাজ্যবাদী ও সম্প্রসারনবাদী শক্তির সহায়তার ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। তাদের শেষ রক্ষা হবে না, হতে পারে না।

ন্যাপ নগর আহ্বায়ক সৈয়দ শাহজাহান সাজুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মোঃ শহীদুননবী ডাবলু‘র সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন কল্যাণ পার্টি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এম.এম. আমিনুর রহমান, ন্যাপ যুগ্ম মহাসচিব স্বপন কুমার সাহা, সম্পাদক মোঃ নুরুল আমান চৌধুরী, আহসান হাবিব খাজা, মোঃ কামাল ভুইয়া, নগর যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আনছার রহমান শিকদার প্রমুখ।

এমএইচ