তিনটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে সেনা মোতায়েন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নজীরবিহীন টালবাহানার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমান।

শুক্রবার গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান তিনি।

বিবৃতিতে বলা হয়, “ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি সর্বজনীন। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই জনগণ বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে আসছে। আর সরকারের মন্ত্রী ও সরকারি দলের নেতারা বরাবরই বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েনের বিপক্ষে বক্তব্য দিয়ে আসছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জনগণের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যেই নির্বাচন কমিশন ২৬ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত বিচারিক ক্ষমতা না দিয়ে শুধুমাত্র স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনা মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিল। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা না যেতেই গত ২৩ এপ্রিল প্রধান নির্বাচন কমিশনার সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সেনাবাহিনীকে সেনানিবাসে থাকার এবং রিটার্নিং অফিসার তাদের ডাকলে সাড়া দিবে মর্মে বক্তব্য দিয়েছেন।

তিনি বলেন, দেশবাসী মনে করে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সরকারের মন্ত্রী ও সরকারী দলের নেতারা সেনা মোতায়েনের বিপক্ষে যে বক্তব্য দিয়ে আসছেন তাই সমর্থন করছে। সরকারি দলের সমর্থিত প্রার্থীদের জোর-জবরদস্তি করে ভোট কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার সুযোগ দেয়ার জন্যই নির্বাচন কমিশন তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে। নির্বাচন কমিশনের এ ন্যক্কারজনক ভূমিকা ভোটারগণকে হতাশ করেছে।

জনগণ মনে করে সরকারের চাপের কারণেই নির্বাচন কমিশন তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে। নির্বাচন কমিশনের এ নজিরবিহীন টালবাহানার আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। জনগণ নির্বাচন কমিশনের এ ভূমিকায় বিক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন। জনগণ মনে করে মেরুদণ্ডহীন। এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে কখনো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করা যায় না।

শফিকুর রহমান বলেন, এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আদৌ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কিনা সে ব্যাপারে জনগণ সন্দিহান। নির্বাচন কমিশনের এ ধরনের নতজানু ভূমিকা কারো কাম্য নয়।

আসন্ন সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যেই মেজিষ্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে অবিলম্বে সেনা মোতায়েন করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

কেএইচ