দল পুনর্গঠনের মতো দুরূহ কাজ করতে আগামী তিন মাসের মধ্যে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। আর এজন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব জেলার ৭৫টি ইউনিটে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি দেয়ার কাজ করছে দলটি।
দলের সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় কমিটি দেয়ার আগে ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদেরকে দিয়ে উপজেলা, জেলা, নগরী ও পৌরসভার কমিটিয়ে দিয়ে দলকে চাঙ্গা করতে চান দলীয় প্রধান।
জাতীয় কাউন্সিল করার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন ইতোমধ্যে জেলা ইউনিটগুলোকে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
দলের নেতারা বলেছেন, উপজেলা, পৌরসভা ও জেলা কমিটি হওয়ার পর দল ঢেলে সাজাতে আগামী নভেম্বরের মধ্যে দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর নতুন করে সরকার-বিরোধী আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "ইতোমধ্যে কাউন্সিল তিন বছর পিছিয়েছে। এখন আমরা জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি শুরু করেছি। আমরা এরই মধ্যে ৭৫টি সাংগঠনিক জেলা ইউনিটগুলোকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন কমিটি দিতে বলেছি।"
তিনি বলেন, "স্থানীয় পর্যায়ে তরুণ, কর্মোঠ এবং যোগ্য নেতা-কর্মীদের দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হবে। একই সঙ্গে যারা সিনিয়র এবং যোগ্য নেতা, কিন্তু বয়সের কারণে শারীরিকভাবে দুর্বল তাদেরকে উপদেষ্টা কমিটিতে রাখা হবে। উপদেষ্টারা সহ-সভাপতির পদ-মর্যাদা ভোগ করবেন।"
মাহবুব আরো বলেন, "আমরা আশা করছি আগামী অক্টোবরের শেষ বা নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় জাতীয় কাউন্সিলের আয়োজন করতে পারব।"
বিএনপি ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, "জাতীয় কাউন্সিলের লক্ষ্যে আমরা তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠনের কাজ করছি। আমাদের ৭৫টি সাংগঠনিক ইউনিটে কমিটি গঠন সম্পন্ন হলে আমরা জাতীয় কাউন্সিলের আয়োজন করব।"
তিনি আরো বলেন, "যদি নির্ধারিত ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তৃনমূল পর্যায়ের কমিটি গঠনের কাজ সম্পন্ন হয়, তবে আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।"
আগামী দেড় মাসের মধ্যে ৭৫টি ইউনিটে কমিটি দেয়ার কাজ শেষ হবে কিনা, এমন প্রশ্ন করলে নোমান বলেন, সিনিয়ার নেতাদেরকে বিষয়টি দেখার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিটি গঠনের কাজ সম্পন্ন শেষ করতে জেলা ইউনিটগুলো সহায়তা করতে বলা হয়েছে।
তবে নোমান জানিয়েছেন, কোনো ইউনিট নির্ধারিত সময়ে কমিটি গঠন করতে না পারলে, তাদের বিষয় পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
তিনি আশা করছেন, দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে জাতীয় কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে নতুন কৌশল নিয়ে নতুনভাবে রাজনৈতিক মাঠে নামবে বিএনপি।
বিএনপির সর্বশেষ ও পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর। সেখানে খালেদা জিয়া দলীয় চেয়ারপার্সন ও খন্দকাল দেলোয়ার হোসেন মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছিলেন। খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বর্তমানে লন্ডনে নির্বাসিত তারেক রহমান দলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন।
দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।
যদিও ২০১৩ সালের মার্চে ও ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে বিএনপি দু'বার জাতীয কাউন্সিল করার পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু তাতে ব্যর্থ হয়েছিল।
জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও দল নিবন্ধনের নিয়ম অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলো প্রতি তিন বছর পর পর কাউন্সিলের আয়োজন করবে।
ইতোমধ্যে বিএনপি'র কেন্দ্রীয় কার্যলয় ৭৫টি সাংগঠনিক জেলার প্রেসিডেন্ট ও সাধারণ সম্পাদক বা আহবায়ক ও সদস্য সচিবকে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠন করতে দলীয় চেয়ারপারসনের দিক-নির্দেশনা ও গাইডলাইন দেয়া হয়েছে।
এতে সতর্ক করা হয়েছে যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কমিটি গঠনের কাজ শেষ না হলে কেন্দ্রীয় কমিটি ওই জেলার বিষয় সিদ্ধান্ত নিবে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহাজাহান-এর স্বাক্ষরিত তিন পৃষ্ঠার চিঠিটি গত ৯ আগস্ট নয়া পল্টনে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যলয় থেকে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে লেখা হয়েছে, "দলের এখন যোগ্য ও সাহসী নেতৃত্ব দরকার। যারা এ কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে, যোগ্যদেরকে জায়গা করে দিতে তাদের স্বেচ্ছায় দলীয় পোস্ট ছেড়ে দেয়া উচিত।"
মো. শাহাজানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অনেক বাধা-বিপত্তির মধ্য দিয়ে দল ঢেলে সাজানোর জন্য দলীয় চেয়ারপারসনের ঘোষণা মোতাবেক আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
তৃণমূল নেতাদের দাবি অনুযায়ী, জেলা ইউনিটগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। যেখানে যারা দলের আন্দোলনে অবদান রেখেছেন এবং ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদেরকে নিয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। সূত্র:ইউএনবি
জেডআই





