আগামীদিনের সম্ভাবনাময় তরুন রাজনীতিক ববি হাজ্জাজ। দেশের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী প্রিন্স মুসা বিন শমসের এর বড় ছেলে তিনি। স্বাধীনতার পর জন্ম নেয়া ববি বেড়ে ওঠেন রাজধানী ঢাকায়।
পড়াশোনা করেন দেশের স্বনামধন্য ইংরেজী মাধ্যম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ম্যাপেল লীফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে। সাফল্যের সঙ্গে ও লেভেল এবং এ লেভেল শেষ করে উচ্চ শিক্ষার জন্য চলে যান দেশের বাইরে।
উচ্চতর বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করেন বিশ্বের নামীদামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। রাজনীতি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রী নেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্বাবিদ্যালয় থেকে। আর বিখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্বাবিদ্যালয় হতে এমবিএ ডিগ্রী অর্জনের পর স্নাতকোত্তর পর্যায়ে গবেষনা করেন একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধীনে।
স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনার সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রকাশনায় লেখালেখির পাশাপাশি জড়িয়ে পড়েন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় নির্বাচনী ক্যাস্পেইনগুলোর সঙ্গে। বলতে গেলে ববির রাজনীতির শুরু অনেকটা সেখান থেকেই।
নব্বই দশকের প্রায় পুরোটা সময় এবং ২০০০ সালের পর, ব্যবসা উন্নয়ন ও আর্থিক বিষয়ক পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন ববি হাজ্জাজ। পাশাপাশি স্বক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে নিয়মিত কলাম লিখেন দেশের বহুল প্রচারিত ইংরেজী দৈনিক, দি ডেইলি স্টার ও দি ডেইলি ইন্ডিপেনডেন্ট এ।
২০০৯ সাল থেকে স্থায়ীভাবে দেশে বসবাস শুরু করেন তিনি। তখন থেকে অদ্যবধি তিনি শিক্ষকতা করছেন দেশের আরেকটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। শিক্ষকতার পাশাপাশি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে কৌশল বিষয়ক গবেষক হিসেবেও কাজ করেছেন ববি হাজ্জাজ।
২০১২ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আহবানে মাঠের রাজনীতিতে আসেন ববি। দেয়া হয় জাপা চেয়ারম্যানের বিশেষ উপদেষ্টার দায়িত্ব। কিন্তু ঢাল নেই,তলোয়ার নেই,যেন নিধিরাম সর্দার। অনেকটা তেমনি অবস্থায় দক্ষতা ও যোগ্যতার সঙ্গে প্রতিকুল পরিবেশে নিজের উপর থাকা দায়িত্ব পালন করেন তরুণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ববি হাজ্জাজ।
পাশাপাশি প্রায় এক বছর দলের উন্নয়নে কাজ করেন গবেষনা ও কৌশল উইং এর প্রধান হিসেবে। ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে করা হয় জাপার মূখপাত্র ও প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী।
এ সময় তিনি এবং তাঁর গবেষনা ও কৌশল উইং এর মাধ্যমে সারাদেশে ৩শ আসনে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়। দলের জন্য ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেই বের করে আনা হয় নতুন অনেক প্রার্থী।
যদিও পরবর্তীতে তার কোনটাই কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি,দেশের পরিস্থিতি বিবেচনায়। তবে অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনের পক্ষে তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকা ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের কাছে খ্যাতি অর্জন করেন তরুন রাজনীতিক ববি হাজ্জাজ।
২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হওয়ার ঘোষনা দেয়ার পর থেকে জাতীয় পার্টির সঙ্গে রাজনৈতিক সব ধরনের দায়-দায়িত্ব ও সম্পর্ক ছিন্ন হয় তাঁর। পরবর্তীতে আবারো তাঁকে এরশাদের বিশেষ উপদেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফিরে যাননি দলে। পরে ২০১৫ সালের অক্টোবরে স্বপ্নের ঢাকাকে স্বপ্নের দেশ এ রূপান্তর করে দেশব্যাপী নাগরিক ক্ষমতায়ন আন্দোলন শুরু করেন ববি হাজ্জাজ।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্বনেতাদের অনেকের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে তরুন এই রাজনীতিকের। যুক্তরাষ্ট্রের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিনেটর ও কংগ্রেসম্যান, যুক্তরাজ্যের পার্লমেন্ট মেম্বার, মিনিষ্টার, ইউ নেতা এবং ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনেক নীতি নির্ধারকের সঙ্গে রয়েছে তাঁর গভীর সম্পর্ক।
দুই কন্যা সন্তানের জনক ববি হাজ্জাজের স্ত্রী রাশনা ইমাম পেশাগত জীবনে একজন ব্যারিষ্টার। ববির ছোট ভাই জুবি বিন মুসাও একজন ব্যারিষ্টার। জুবি বিয়ে করেছেন ফেনীর কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, বৈশাখী টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী শহিদুল্লাহর মেয়েকে।
জুবি দীর্ঘদিন থেকে সুপ্রীমকোর্টে সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক (আইনমন্ত্রী) এর সহকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। আর ছোট বোন ন্যান্সী জাহরা বিনতে মুসা যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস এ্যাস্টেট বিশ্ববিদ্যালয় হতে এমবিএ ডিগ্রী অর্জন করেন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিমের বড় ছেলে শেখ ফজলে ফাহিমের সঙ্গে সংসার করছেন ববি হাজ্জাজের আদরের ছোট বোন ন্যান্সী।
এআই





