রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন,এ সরকার কাঠ কয়লা আর খনিজ কয়লার মধ্যে পার্থ্যক বোঝে না।রামপাল বিদুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কারণে শুধু সুন্দরবনই নয় রামপাল কিংবা বাগেরহাটের জনগণও ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির উদ্যোগে আজ ধানমন্ডিস্থ বিলিয়া মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ একথা বলেন।

তিনি বলেন, এ সরকার ঢাকার চারপাশে নদীগুলো রক্ষা করতে পারছে না। ছোটখাটো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। তারা সুন্দরবন কীভাবে রক্ষা করবে? সুন্দরবন রক্ষার ব্যাপারে আমরা কীভাবে তাদের ওপর আস্থা রাখব, সে প্রশ্ন তো আমরা করতেই পারি।

তিনি আরও বলেন, ভারতের সাধারণ জনগণ ও বিশেষজ্ঞরাও রামপাল প্রকল্পের কারণে সুন্দরবনের ক্ষতি স্বীকার করে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন। কিন্তু ভারতীয় কম্পানি এ প্রকল্পের মাধ্যমে সুন্দরবন ধ্বংসের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। তাই এ প্রকল্প হলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে শত্রুতা চিরস্থায়ী হবে।

অপরদিকে , সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, রামপাল বিদুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কারণে সুন্দরবন ধবংস হয়ে গেলে ইতিহাসের কাছে দায়ী থাকতে হবে আমাদের। তিনি বলেন, সুন্দরবনের পাশে কয়লা ভিত্তিক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণের কারণে একদিনেই হয়ত সুন্দরবনের কিছু হবে না। কিন্তু একথা সত্যিই এই বন ধীরে ধীরে ধবংস হয়ে একদিন ঠিকই উধাও হয়ে যাবে। অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক।

sultana_134791

সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল আরো বলেন,এই বিদ্যুৎ প্রকল্পটি নির্মাণের পেছনে বহু ব্যক্তির নিজস্ব স্বার্থ জড়িত। তারা তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থই সরকারকে দিয়ে পুরণ করতে চাইছে। আর এজন্য এর সরকারের কাছে সুন্দরবনের জীব-বৈচিত্র কোনো গুরুত্ব নেই।

তিনি আরও বলেন ,রামপাল প্রকল্পের কারণে সুন্দরবনের ক্ষতি হবে, এটা নিশ্চিত জেনে আমরা সুন্দরবন রক্ষার জন্য আন্দোলন করছি। কিন্তু রামপাল প্রকল্প নিয়ে ১০টি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে এক প্রবাসী বাংলাদেশি প্রকৌশলীকে দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে বিলিয়া মিলনায়তনে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে সুলতানা কামাল এসব কথা বলেন। সুলতানা কামাল বলেন, তিনি যে ১০টি প্রশ্ন করেছেন এবং রামপাল প্রকল্প কর্তৃপক্ষ যে উত্তর দিয়েছে, তা অর্ধসত্য ও ভুল। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার যে জবাব দিয়েছে, তা অবৈজ্ঞানিক ও অপর্যাপ্ততাভিত্তিক।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, রামপাল প্রকল্পে সুন্দরবনের ক্ষতি বিষয়ে আমরা বিভিন্ন সময়ে তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেছি। কিন্তু কই, আমাদের প্রশ্ন নিয়ে সরকারের তো কোনো আলোচনা দেখিনি।

এক প্রবাসী প্রকৌশলী যে ১০টি প্রশ্ন তুললেন, সঙ্গে সঙ্গে রামপাল প্রকল্প কর্তৃপক্ষ থেকে ওই ১০ প্রশ্নের জবাব দিয়ে বলা হলো যে তারা ওই ১০ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রকল্প তৈরি করবে। আর সরকার থেকে সন্তুষ্টি প্রকাশ করা হলো। এই পুরো ঘটনাটি আমার কাছে সাজানো নাটক বলে মনে হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ওই ১০টি প্রশ্ন বিষয়ে বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের মতামত তুলে ধরেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির পক্ষে শরীফ জামিল।

এআই