বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগরের আহবায়ক মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত পুলিশের বুলেট শেষ না হয় ততক্ষণ রাজপথে থাকব।’

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে শনিবার বিকালে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) বর্ধিত সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি কোনো সহিংস আন্দোলনের কর্মসূচি দিবেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পুলিশ ও প্রশাসনের কোনো কিছু যেন সীমা অতিক্রম না হয়ে যায়- এতটুকুই হুঁশিয়ার করতে চাই। সীমা অতিক্রমকারীকে আল্লাহ সহ্য করেন না।’

পরবর্তী আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশকে রক্তাক্ত করছে। বিএনপি শরীর থেকে রক্ত মুছতে মুছতে শেষ করে ফেলেছে। পরবর্তী আন্দোলনে আমরা মাঠে থাকবো পুলিশের বুলেট থাকা পর্যন্ত। আমরা দেখবো পুলিশের বুলেট বেশি, না আমাদের বুকে সাহস বেশি।

বিএনপি নেতা সরকারকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমরা আন্দোলন সহিংস করবো না, তবে সরকার যেন সীমা অতিক্রম না করে। কারণ সব কিছুর একটি সীমা আছে, আল্লাহও সীমা অতিক্রমকারীকে পছন্দ করেন না।

তিনি আরও বলেন, দেশ রক্তাক্ত হয়েছে আওয়ামী লীগের হাতে, বিএনপির হাতে নয়। আওয়ামী লীগ নারায়ণগঞ্জ রক্তাক্ত করেছে, লগি বৈঠা দিয়ে নেতা-কর্মীদের রক্তাক্ত করেছে এবং বিএনপির আন্দোলনের সময় ২০ জন মানুষকে হত্যা করেছে।

ঢাকা মহানগর বিএনপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরের দায়িত্ব পেয়েছি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। সবাই সংগঠিত হচ্ছি একটি অহিংস আন্দোলনের জন্য।

মির্জা আব্বাস বলেন, গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে বিএনপি আন্দোলন করে যাচ্ছে। আমাদের রাজপথে আন্দোলন করতে দিন। তখন দেখা যাবে পুলিশ কত গুলি করতে পারে আর বিএনপির নেতাকর্মীরা কত গুলি হজম করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর লেখা বইয়ের শিরোনামকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন রক্তাক্ত বাংলাদেশ বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগ করেছে। আওয়ামী লীগ বার বার বাংলাদেশকে রক্তাক্ত করেছে। আর বিএনপি রক্ত মুছেছে। তাই বইয়ের নাম হওয়া উচিৎ ছিল দরক্তাক্ত বাংলাদেশ ও আওয়ামী লীগের ভূমিকা'।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি প্রশ্ন রেখে আব্বাস বলেন, নারায়ণগঞ্জকে কে রক্তাক্ত করেছে। দিনে দুপুরে লগি বৈঠা দিয়ে কারা মানুষ হত্যা করেছে, গুম-খুন কারা করেছে। সবই আওয়ামী লীগ করেছে।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমার কাছে আপনারা সবাই বেশি আশা করছেন এটাই আমার ভয়। আপনারা যদি কম আশা করতেন তাহলে আমি বেশি দিতে পারতাম।

তিনি বলেন, অবৈধ সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যা যা করা দরকার সবই করছেন। আওয়ামী যখনই ক্ষমতায় আসে তখই গণতন্ত্র হরণ হয়। মানুষ তাদের কথা দাবি দাওয়া করতে পারে না। এটাই আওয়ামী লীগের চরিত্র।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এম এম খালেদ সাইফুল্লাহর সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন- লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, সংগঠনের মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাৎ হোসেন সেলিম, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. ইকবাল হোসেন তালুকদার প্রমুখ।

 

ঢাকা, ২৩ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই