৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি’ দিবস উপলক্ষে বিএনপি গত ১২ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত জনসভায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আক্রোশপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
বিএনপির এই নেতা বলেছেন, শেখ হাসিনার ওপর নাকি খালেদা জিয়ার অন্ধ আক্রোশ। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়া নিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের বক্তব্য ছিল রাজনৈতিক। এখানে আক্রোশের কোনো ব্যাপার নেই।
আজ সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম’৭১ কেন্দ্রীয় কমিটি এ সভার আয়োজন করে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা দেখলাম, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন শেখ হাসিনার ওপর নাকি দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার অন্ধ আক্রোশ। রাজনৈতিক বক্তব্যকে রাজনৈতিকভাবে নিতে হয়। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া ব্যক্তিগত কোনো অভিযোগ করেননি।’
‘তিনি (খালেদা জিয়া) বলেছেন, শেখ হাসিনা বা তাঁর সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ যাবে না। এটা রাজনৈতিক বক্তব্য, এখানে আক্রোশের কোনো ব্যাপার নেই। খালেদা জিয়া দুটি চ্যালেঞ্জ করেছেন- কোনো বাধা না দিয়ে আপনারাও জনসভা করেন, দেখেন কোন জনসভায় বেশি মানুষ আসে’, বলেন নজরুল ইসলাম।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরো বলেন, ‘নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন, সেই নির্বাচনে যদি আওয়ামী লীগও বিজয়ী হয়, আমরা তাদের গ্রহণ করব। কিন্তু তারা জানে তাদের কোনো সম্ভাবনা নেই। এ জন্য তারা দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু বিএনপি চায় আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন।’
বিএনপির গতকালের জনসভাকে ব্যর্থ করার জন্য সড়ক পরিবহন, নৌপরিবহন বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঢাকার আশপাশের কোনো জেলা থেকে কোনো বাস আসতে দেওয়া হয়নি। তারপরেও সরকারের আচরণে ক্ষুব্ধ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং গুম, খুন, নানা ধরনের নিপীড়নে-নির্যাতনে অতিষ্ঠ জনগণ হেঁটে কষ্ট করে জনসভায় এসেছেন।
আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম ’৭১-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ঢালী আমিনুল ইসলাম রিপন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক জিয়া, ঢাকা মহানগর বিএনপির (দক্ষিণ) সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার প্রমুখ।
এএস





