নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে সমলোচনাকারী বুদ্ধিজীবীদের হুঁশিয়ার করলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে এমপি প্রার্থী একেএম সেলিম ওসমান।
তিনি বলেন, ‘সমালোচনা করেন ভাল কথা। কিন্তু এমন মিথ্যা কোন তথ্য দেবেন না যাতে নারায়ণগঞ্জের মানুষ বিভ্রান্ত হয়। ২৬ তারিখ পর্যন্ত সমালোচনা করেন। এরপর নারায়ণগঞ্জের মানুষ আপনাদের জবাব দেবেন।’
শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় শহরের টানবাজার এলাকায় বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ভ্যাট সমস্যা সমাধান বিষয়ে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ শত্রুকে আলিঙ্গন করতে না পারি ততক্ষণ আমি নিজেকে দানব বলে মনে করি। শেখ হাসিনা আমাদের পরিবারের অতীত সম্পর্কে বলেছেন। এতেই অনেকের গা জ্বলে যাচ্ছে। কিন্তু উনি বলেন নি ওসমান পরিবার নারায়ণগঞ্জে রাজত্ব করবেন কিনা। ওসমান পরিবার নারায়ণগঞ্জের মানুষ বানিয়েছে। নারায়ণগঞ্জের মানুষ আমাদের পছন্দ না করলে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করবে।’
এসময় তিনি বুদ্ধিজীবীদের কারণে অনেক ব্যবসায়ী নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে চলে গেছেন বলে মন্তব্য করেন।
শুক্রবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে গোলটেবিল বৈঠকে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান সেলিম ওসামনের ধনকুবের হয়ে উঠার ব্যাপারে প্রশ্ন তোলেন।
সেলিম ওসমান বলেন, ‘আমি ছোটখাট অনেক ব্যবসা করেছি। তবে কন্ট্রাক্টর ছিলাম না, কাউকে কন্ট্রাক্ট পাইয়েও দিই নি। আমার বাবা এমপি ছিলেন, আমি আমার বাবার কাছে হাত পেতে কিছু নিই নি। আমি হাত পাততে জানি না। আর ভাইবোনদের কাছে তো হাত পাতার প্রশ্নই উঠেনা।’
তিনি বলেন, ‘১১৯৭৬ সার থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৩৮ বছর ধরে আমি ব্যবসা করছি। ১৯৮৮ সালে আমি আমার উইজডম কারখানার মাধ্যমে প্রথম ৪৫ হাজার ডলারের অর্ডার পেয়ে পণ্য রপ্তানি করি। এরপর গত ২৬ বছরে আমি ২৫ কোটি ৬৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার যা টাকার পরিমাণে ১৯৭৫ কোটি ১০ লাখ টাকার পণ্য রপ্তানি করেছি। সরকারকেও ট্যাক্স দিয়েছি।’
বুদ্ধিজীবীরা নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের কাজে বাধা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন ‘তাদের কারণে নারায়ণগঞ্জ থেকে অনেক হিন্দু ব্যবসায়ী চলে গেছেন।’
বাংলাদেশ ইয়ার্ণ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিটন সাহার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ এর সাবেক সভাপতি আবদুর রাশেদ রাশু, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মঞ্জুরুল হক, বিকেএমইএ পরিচালক আবু হোসেন সিদ্দিক, নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সভাপতি এম সোলায়মান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নিরজ্জন চন্দ্র দাস, রঞ্জিত কুমার দাস, আবুল হাশেম, জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি চন্দন শীল, নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক খালেদ হায়দার খান কাজল, বাংলাদেশ ইয়ার্ন মাচেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহ সভাপতি মো. মুসা, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও বিকেএমইএর পরিচালক জিএম ফারুক, জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম।  
[b]ঢাকা, ৭ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]