দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের তৃণমূল চলছে মেয়াদর্ত্তীণ কমিটি দিয়ে। বিগত প্রায় ৬টি বছর ক্ষমতায় থেকে সরকার পরিচালনা, যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও বিরোধী জোট দমনে ব্যস্ত ছিল ক্ষমতাসীনরা।

ফলে বেশিরভাগ জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সম্মেলন করতে পারে নি তারা। তাই দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এবার দল গোছাতে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব।

প্রায় এক দশক ধরে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন জেলা চলছে মেয়াদহীন কমিটি দিয়ে। ফলে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা। তৃণমূল আওয়ামী লীগে চলছে দ্বন্দ্ব-সংঘাত। নেতাকর্মীরা কেউ কারো কথা শুনছে না। দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় দলের নিয়ম-শৃঙ্খলার ভঙ্গুর অবস্থা।

৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে ৫ বছর ক্ষমতায় টিকে থাকতে দল গোছানোর দিকে নজর দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এদিকে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের যে কোন ধরনের আন্দোলন মোকাবিলা করতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতেই তারা এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

গত ৯-১০ মাস যাবত ঈদের পরে কঠোর আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর পবিত্র ঈদুল আজহা গেলও তাদের আন্দোলনে নামার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

তাই এই সুযোগে দলকে শক্তিশালী করতে দলীয় প্রধানের নির্দেশে এবার মাঠে নামছে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা।

প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ অনুযায়ী তৃণমূল সম্মেলনে দলের সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। গত ১৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও জেলায় ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও ১৮ অক্টোবর শনিবার পাবনার আটঘাটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ রহনপুর আওয়ামী লীগের পৌর কাউন্সলি অনুষ্ঠতি হয়। সেখানে ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ দিলু উপস্থিত ছিলেন।

যে কোন ভাবেই আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সকল জেলা, উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কাউন্সিল শেষ করতে চায় আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র টাইমনিউজবিডি.কমকে জানিয়েছেন, টানা দ্বিতীয় ক্ষমতায় আসার কারণে দলের সিনিয়র নেতারা সরকার পরিচালনায় ব্যস্ত থাকায় দলের দিকে তেমন একটি নজর দিতে পারে নি। তবে এবার নেত্রী নিজে বলেছেন- দলীয় শক্তিই ক্ষমতায় থাকার মূল উৎস। তাই দ্রুত গতিতে দল গোছানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

আওয়ামী লীগের যৌথ সভায় ডিসেম্বরের মধ্যে সম্মেলন শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও সম্মেলনগুলোতে দলের সিনিয়র নেতাদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এ জন্য ১০টি টিম গঠন করা হয়েছে।

জানাগেছে, আগামী ২৫ অক্টোবর রাজশাহী মহানগর, ৯ নভেম্বর জয়পুরহাট, ১২ নভেম্বর পটুয়াখালী, ১৩ নভেম্বর বরগুনা, ২২ নভেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কাউন্সিল, ২৭ নভেম্বর রাজশাহী, ২৯ নভেম্বর পাবনা জেলার সম্মেলনের তারিখ এরই মধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। এছাড়াও ইতোমধ্যে রাজশাহী বিভাগের সব জেলা-উপজেলার সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ ব্যপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন টাইমনিউজবিডি.কমকে বলেন, অনেক আগে থেকেই আমরা তৃণমূল গোছাতে কাজ করছি। আগস্ট আমাদের শোকের মাস। তাই এই মাসে আমাদের সম্মেলনের কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

আমরা আবার কাজ শুরু করেছি। আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই আমরা সম্মেলনের কাজ শেষ করতে পারবো বলে আশা করছি।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ টাইমনিউজবিডি.কমকে বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে গত জুন মাস থেকে আমরা বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক সফর শুরু করেছি। আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে। নেত্রী আমাদের আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তৃণমূল গোছাতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ডিসেম্বরের আগেই আমরা আমাদের কাজ শেষ করতে পারবো।

এমআর/এসএইচ