বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ। সমাবেশে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে সরকারকে অবিলম্বে জাতীয় নেতৃবৃন্দকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান করছি। অন্যথায় জনগণকে সাথে নিয়ে তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের মুক্ত করা হবে।
মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় বিক্ষোভ মিছিলটি মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা হতে শুরু হয়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে এক সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট ড. মো: হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহা: দেলাওয়ার হোসেন ও আবদুল জব্বার, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুস সবুর ফকির, অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন, শামছুর রহমান, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য কামাল হোসাইন, আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগরী পূর্বের সভাপতি আবুল খায়ের, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি সাজ্জাদ হোসাইন, ঢাকা কলেজ সভাপতি শফিউল আলমসহ জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের বিভিন্ন থানা শাখার আমীর ও সেক্রেটারিবৃন্দ।
মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বলা হয়, সোমবার রাত ৮টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরার একটি বাসা থেকে জামায়াত নেতৃবৃন্দকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়। জামায়াতে ইসলামী দেশে একটি নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। দেশে বিদ্যমান ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতিতে জামায়াত জনগণের পাশে থেকে সার্বিক সেবা সহযোগিতা করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় ৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে সরকার কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করে। যা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
সভাপতির বক্তব্যে মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়ে বিরোধী দল ও মতের ব্যক্তিদের নির্মুলের পথ বেছে নিয়েছে। এই করোনার মধ্যেও বাংলাদেশের মানুষের নানাবিধ সঙ্কটকালীন জামায়াত যখন দেশের মানুষকে সেবা ও সহযোগিতা করে যাচ্ছে, ঠিক এমন সময়ে আওয়ামী সরকার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আজাদসহ ১০ জনকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে।
ড. মাসুদ বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতা কর্মীকে গ্রেফতার করে ফাঁসি দিয়ে, মামলা দিয়ে অতীতেও এ আন্দোলনকে থামানো যায়নি, ভবিষ্যতেও যাবে না। তিনি সরকারকে সংবিধান প্রদত্ত জামায়াতের রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১০ নেতাকর্মীর গ্রেফতারের প্রতিবাদে ও তাদের অবিলম্বে নিঃর্শত মুক্তির দাবিতে ঢাকা জেলা দক্ষিণ জামায়াত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
মঙ্গলবার সকালে কেরানীগঞ্জের মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে এই বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি চুনকুটিয়া চৌরাস্তা থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঝিলমিলে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এ বি এম কামাল হোসাইন। উপস্থিত ছিলেন জেলা শূরা সদস্য নুরুন্নবী মজুমদার, ছাত্রশিবির জেলা সভাপতি সাফিউল আলমসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে এ বি এম কামাল হোসাইন বলেন, সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই সেক্রেটারি জেনারেলসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করেছে। সরকার ফ্যাসীবাদী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। কিন্তু নির্যাতন চালিয়ে অতীতে কোনো শক্তির শেষ রক্ষা হয়নি, আর আওয়ামী লীগেরও হবে না।
তিনি শীর্ষনেতাদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং গ্রেফতারকৃতদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।-বিজ্ঞপ্তি।
এবিএস





