১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস।দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এ উপলক্ষে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে ক্ষমতাসীনরা।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করা জরুরী বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব।
তাই দিবসটি উপলক্ষে ঢাকায় ব্যাপক জনসমাগম ঘটিয়ে বড় ধরনের শোডাউন করবে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বকারী এ দলটি।
এদিকে গত ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্রের বিজয় দিবসের কর্মসূচি পালন করতে না পেরে আন্দোলন-সংগ্রামের সুতিকাগার নগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মনোবল অনেকটা ভেঙ্গে পেড়েছে।নেতাকর্মীদের হারানো মনোবল চাঙ্গা করতেই এ উদ্যোগ নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
১০ জানুয়ারির অন্যান্য কর্মসূচির ন্যায় ওইদিন বিকেলে সমাবেশ করার ঘোষনা দিলেও বিশ্ব ইজতেমার কারণে এ কর্মসূচি পিছিয়ে ১২ জানুয়ারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
এই সমাবেশকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে দলের বিভিন্ন সহযোগি, অঙ্গ-সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রীতম সংগঠনের নেতাককর্মীদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও ঢাকা মহানগর আওয়ামী, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগসহ আওয়ামী ঘরনার বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ একাধিকবার বৈঠক করে সমাবেশে লোক সমাগমের ব্যাপারে কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন।
এসব বৈঠকের মাধ্যমে সমাবেশে আগত নেতাকর্মীদের হাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের ছবি সংকবলিত প্লাকার্ড, ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছেন।
মধ্যেবর্তী নির্বাচনের দাবিতে বিরোধী জোটের আন্দোলন ও বিদেশীদের চাপ এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কথা মাথায় রেখেই এই সমাবেশকে ঢাকায় জীবনের সবচেয়ে বড় সমাবেশ করার লক্ষে এগিয়ে যাচ্ছে সরকারী দল।
এ সমাবেশে ব্যাপক লোকের সমাগম ঘটিয়ে তারা দেশী-বিদেশী সবাইকে দেখাতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাঙ্গালী জাতি ঐক্যবদ্ধ।
সমাবেশকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে পারলে আগামী দিনগুলোতে বিরোধী জোটের আন্দোলন মোকাবেলায় নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হবে বলে মনে করছেন দলটির নিতীনির্ধারকরা।
এ লক্ষেই ঢাকা, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও নারায়নগঞ্জসহ এর আশপাশের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ-সংগঠন এবং ভ্রাতৃপ্রীতম সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে বিশেষ নির্দেশানা দিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের যে সব সমাবেশে অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকেন।ওইসব স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহীনি ও প্রধানমন্ত্রীর স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) কঠোর নিরাপত্তার কারণে অনেক নেতাকর্মী সমাবেশ স্থলে ঢুকতে না পেরে ফিরে যায়।
আগামী ১২ জানুয়ারির যাতে কোন নেতাকর্মী ফিরে না যায় এবং সমাবেশ স্থলে যাতে নিবিঘ্নে ঢুকতে পারে সেই ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে প্রধানমন্ত্রী পর্যাপ্ত নিরাপত্তা রক্ষা করেই এ ধরনের ছাড় দেয়া হবে। এ ব্যাপারে এসএসএফের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা কথা বলেছেন।
সমাবেশের পস্তুতি নিতে গত ৬ জানুয়ারী ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ এক বর্ধিত সভা করেছেন।
সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদেশ্য করে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ৫ তারিখে আমরা আনন্দ করতে পরিনি।সেই আনন্দ বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে করবো। সবাই মিলে ডাক-ঢোল পিটিয়ে সমাবেশ স্থলে উপস্থিত হবে। এই সমাবেশকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে হবে।
ওই সভায় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, খালেদার ডাকে একটা কাকও রাস্তায় নামেনি।
জাতির জনকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে শেখ হাসিনার ডাকে কত মানুষ আসে সেটা দেখাতে চাই।ঢাকার ইতিহাসে সর্ব বৃহত্তর জনসভা করতে চাই।
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি, কিন্তু বিজয়ের প্রকৃত স্বাদ আমরা পাইনি।
বিজয়ের প্রকৃত স্বাদ পেয়েছি ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি যে দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে এসেছিল।
এই সমাবেশের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করে দিব দেশের ৭০-৮০ ভাগ মানুষ বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উচ্ছাসিত।
এমআর/এসএইচ





