বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেছেন, পুলিশই আমাদের আন্দোলনের সময় পেট্রলবোমা মেরে নাশকতা করেছে। শুধু পেট্রলবোমা নয় বাসে আগুনও দিয়েছে তারা। পুলিশ নিজেই তা স্বীকার করেছে। তা নাহলে আমাদের তিন মাসের আন্দোলন বন্ধ হতো না। তাদের কেন আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না?’
শনিবার সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ঐক্য আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ আইনজীবী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান টি এইচ খান এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুবু উদ্দিন খোকন। খালেদা জিয়া বিকেল ৬টা ৪০ মিনিটে সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এসে পৌছান।
খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে বিশ্বাস করে। গণতন্ত্র না থাকলে আইনের শাসন থাকে না। বিচার বিভাগ পৃথক হয়েছে ঠিক কিন্তু বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হয় নাই। আরো বেশি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। সরকার পেশী শক্তি দিয়ে বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে ২০ দলের নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশে ন্যায় বিচার ও আইনের শাসন নেই। সকলের জন্য আইন সমান ভাবে চলছে না। সরকার দলের জন্য এক রকম বিচার চলছে আর বিরোধী দলের জন্য আরেক রকম বিচার চলছে। সরকারী দলের লোকেরা অপরাধ করলেও পুরিশের চোখে পড়ে না। আর বিএনপির নেতাকর্মীরা অপরাধ না করলেও তাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশ হয়রানি করছে। সরকারি দল হলে এরকম বিচার হয়, বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষ হলে আরেক রকম। এটা চলতে পারে না।
সারাদেশে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিএনপির এমন একজনও নেই, তার বিরুদ্ধে মামলা নেই। বিএনপির কী সব অপরাধী। আর আওয়ামী লীগের কি সব সুফী হয়ে গেছে। যারা একসময়ে কেউ ২০ হাজার, কেউ ৩০ হাজার মানুষ গুম-খুন করেছে, যা রেকর্ডে আছে। আজ তারা সব ভালো মানুষ হয়ে গেছে। এই হচ্ছে আজকের বিচার।
১৯৯৬ সালে গান পাউডার দিয়ে যাত্রীবাহী দোতলা বাসে আগুন লাগিয়ে মানুষ হত্যা ও পরবর্তিতে লৈগি-বৈঠার আন্দোলনে জীবন্ত মানুষ হত্যার প্রসঙ্গ টেনে খালেদা জিয়া তাহলে কি আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী দল নয় ? তারা সন্ত্রাসী। কত বাসে আগুন দিয়েছে তারা। এভাবে আওয়ামী লীগ প্রতি পদে পদে সন্ত্রাস করছে।
বিচারক অপসারণে ১৬তম সংশোধনীর সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, এখন বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা এখন সংসদে হাতে দেয়া হচ্ছে। তার মানে আরো বেশি নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে বিচারকরা বেশি নিয়ন্ত্রিত। এজন্য দেশে আজ ন্যায় বিচার নেই, আইনের শাসন নেই।
তিন সিটি করপোরেশনের নিবার্চনে সময়ে নিজের গাড়িতে গুলিবর্ষন ও হামলা ঘটনায় সরকার কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নাশকতার মামলায় অভিযোগকৃত দলীয় সকল নেতা-কর্মীর মুক্তির দাবি জানিয়ে আদালতের কাছে ‘ ন্যায় ও সুবিচার’ বিচার প্রার্থনা করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আসন্ন নিবার্চনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেলকে ঐক্যবদ্ধভাবে বিজয়ী করার জন্য আইনজীবীদের প্রতি আহবান জানান তিনি। অবিলম্বে নিবার্চনের দাবি পূনরুর্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, প্রত্যেকে বলছে, একটা নিবার্চন দরকার। তবে সেটা আওয়ামী লীগের মার্কা সিটি করপোরেশন নিবার্চনের মতো নয়। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহনমূলক একটি গ্রহনযোগ্যমূলক সুষ্ঠু নিবার্চন হতে হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে একই মঞ্চে ইফতার করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন, উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট এজেড মোহাম্মাদ আলী, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন, নজরুল ইসলাম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাসির।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদ, সাবেক প্রভিসি আ ফ ম ইউসূফ হায়দার, ভাইস-চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসূফ, আব্দুল্লাহ আল নোমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, অ্যাডভোকেট সানা উল্লাহ মিয়া, খোরশেদ আলম, ওলিউর রহমান, ওমর ফারুক, হুমায়ন কবির, আব্বাস উদ্দিন, মহিলা দলের সভাপতি নূরী আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা।
এমএইচ/ এআর/ এসএইচ





