দশম সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জলাতঙ্ক হওয়ায়’ সবাইকে কুকুর দেখেছেন তিনি।

শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে খালেদা জিয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি।

“জলাতঙ্ক রোগ হলে নাকি মানুষ চোখে কুকুরের বাচ্চাই দেখে। জলাতঙ্ক হলে সব কুকুর দেখে। ওনাকে কোন কুকুর কামড় দিল?,” বিএনপি নেত্রীকে নিয়ে বলেন শেখ হাসিনা।

বিএনপির বর্জনের মধ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। ভোটে জনগণের অংশগ্রহণ ছিল না দাবি করে সরকারকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে আসছেন বিএনপি নেতারা।

ওই নির্বাচনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে গত ৫ জানুয়ারি নয়া পল্টনে বিএনপির জনসভায় খালেদা জিয়া বলেন, “৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে কেউ যায়নি। ২০ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশ নেয়নি। ভোটকেন্দ্রে কুকুর শুয়ে ছিল। ভোট দিলে কুকুরই দিয়েছে, মানুষ ভোট দেয়নি।”

খালেদার বক্তব্য পত্রিকায় দেখেছেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “উনি বলেছেন, ওখানে নাকি পুলিশ ছিল আর কুকুর ছিল। ভোটিং অফিসার ছিল, সাংবাদিক ছিল, ভোটার ছিল। সবাইকে উনি কুকুর হিসেবে দেখলেন। যখন মানুষের জলাতঙ্ক হয় তখন সবাইকে কুকুর দেখে। উনার দৃষ্টিতে সব কুকুর হয়ে গেল।

“কতবড় অডাসিটি, মানবসন্তান ও ভোটারদের কুকুর হিসেবে দেখলেন। এতবড় নোংরা কথা জঘন্য কথা গালি উনার মুখে সাজে।”

এ ধরনের কথা বলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যারা মানুষ পুডিয়ে মারে, ভোটারদের কুকুর বলে, তার জবাব জাতির কাছে একদিন দিতে হবে, তওবা করেন। মানুষকে কেন ‍কুকুর বললেন?

“জনগণকে পুড়িয়ে মারলেন এর বিচার হওয়া দরকার। আল-বদর রাজাকারদের হয়ে কথা বলেন, এটা জনগণ বরদাশত করবে না।”

বক্তব্যের শুরুতে আওয়ামী লীগের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলেন সভানেত্রী শেখ হাসিনা। ২০তম জাতীয় সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ এবং তার প্রস্তুতির জন্য উপ-কমিটি গঠনের কথা বলেছেন তিনি।

আওয়ামী লীগের ১৯তম জাতীয় সম্মেলন হয়েছিল ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর। ওই কমিটির মেয়াদ গত ২৯ ডিসেম্বর শেষ হয়।

এসএইচ