জমে উঠেছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা। প্রার্থী এবং প্রার্থীর পক্ষে যে যেখানেই পারছেন নিজের পক্ষে ভোটারদের বাগিয়ে আনতে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন।

প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি এবারের প্রচারণার জন্য বেছে নিয়েছেন টেলিভিশন টকশো। নিজেরা এসব টকশোতে অংশ নেয়ার পাশাপাশি নিজের পক্ষে যাকে পারছেন তাকে দিয়েই ভোটারদের স্বপক্ষে আনতে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

যদিও নামে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অরাজনৈতিক, তবে বাস্তবে পুরোদমেই নির্বাচনটি হচ্ছে দলীয় ব্যানারে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নিজ দলের প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

ভোটারদের নিজের পক্ষে আনতে মুহুর্তে মুহুর্তে খোলস পর্যন্ত বদলাচ্ছেন প্রার্থীরা। কিছুদিন আগেও যেই মাহী বি চৌধুরি নানা কারণ দেখিয়ে ২০ দলীয় জোটে অংশ নেননি, তিনি এখন খালেদা জিয়া ও ২০ দলের সমর্থন পেতে মরিয়া।

বাড়ছে জামায়াত-হেফাজতেরও কদর। প্রকাশ্যে কিছু না বললেও নেপথ্যে জামায়াত-হেফাজতকে বাগে আনতে চলছে নানামুখী কৌশল।

তবে, গত কয়েকদিনে টেলিভিশন টকশোতে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণাই যেন মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একটি সুষ্ঠু ও ফলপ্রসূ নির্বাচনের জন্য নানা ফর্মূলা দিচ্ছেন বিশিষ্ট নাগরিকরা। ভোটারদের সচেতন করার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার কথা থাকছে বিশিষ্টজনদের বক্তব্যে।

বুধবার রাতে একটি বেসরকারী টেলিভিশনের টকশোতে বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, সাধারণ মানুষকে ভোটকেন্দ্রে আসতেই হবে। তাদের ভোট প্রদান নিশ্চিত করা গেলেই এই নির্বাচন ফলপ্রসূ হবে।

ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে জোরালো ভূমিকা রাখারও আহবান জানান এই আইন বিশেষজ্ঞ।

আরেক টেলিভিশনের টকশোতে বিএনপি'র আইন বিষয়ক সম্পাদকব তৈমুর আলম খন্দকার বলেছেন, সাধারণ ভোটাররা যদি ভোট দিতে পারেন তাহলে সিটি নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা জয় লাভ করবে।

তিনি আরো বলেন, স্বাধীন দেশে প্রথম হরতাল পালনকারী গণ বাহিনীর নেতারা এখন আওয়ামী লীগে রয়েছেন। আওয়ামী লীগ বলে বিএনপি বোমাবাজি করে, গাড়িতে আগুন দেয়। তাহলে ২০০৪ সালে ডেমরাতে ২১ জনকে এবং শাহবাগে ১১ জনকে কে পুড়িয়ে মেরেছে। তখন তো বিএনপি হরতাল দেয়নি, দিয়েছিল আওয়ামী লীগ।

একই টকশো'তে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ডা: হাবিবে মিল্লাত বলেন, সরকারের সাথে লিয়াজু করতে না পারলে উন্নয়ণ করা যায় না। তাই উন্নয়ণের জন্য জনগনকে অবশ্যই সরকার সমর্থিত প্রার্থীকে ভোট দেয়া উচিত।

তিনি আরো বলেন, যেই দলের সৃষ্টি নিয়ে সমস্যা আছে, সেই দলের দ্বারা উন্নয়ণ সম্ভব নয়।

এছাড়া আরেকটি টকশো'তে মেয়র প্রার্থী আনিসুজ্জামান খোকন বলেন, ঢাকা শহরকে সুন্দর করতে শুধু মাত্র একটি সুন্দর সিদ্ধানতই যথেষ্ট। টেন্ডারের মাধ্যমে সরকার দলীয় লোকদের টাকা খাওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ না করলে স্থায়ী উন্নয়ণ সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরেকটি টকশো'তে সাবেক রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল হুদা বলেন, উন্নয়ণের জন্য দরকার শক্ত সিদ্ধান্ত, তা না হলে রাজধানীকে কিছুতেই সুন্দর করা যাবে না। এ সময় তিনি হাতিরঝিল প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, হাতিরঝিল করার সময় অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, সুদৃঢ় সিদ্ধান্ত না নিলে হাতিরঝিল করা সম্ভব হতো না।

ইআর