বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জড়িয়ে ধরেও গ্রেফতার এড়াতে পারলেন না ছাত্রদল উত্তরের সভাপতি মিজানুর রহমান রাজ।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আজ (বৃহস্পতিবার) প্রেসক্লাবের সামনে দলটির অবস্থান কর্মসূচিতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যায়।

কর্মসূচি চলাকালে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বক্তব্য শেষ হওয়ার পর মিজানুর রহমানকে প্রথম দফায় ধরার জন্য চেষ্টা করে পুলিশ। এ সময় তাকে ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

পরে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থানরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব সদস্য একযোগে তাকে ধরার চেষ্টা চালান। এ সময় মিজানুর রহমান জড়িয়ে ধরেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। কিন্তু তাতেও রেহাই পাওয়া যায়নি। পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যান।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আজ (০৮ মার্চ) সারা দেশে অবস্থান কর্মসূচি পালনের অংশ হিসেবে সকাল থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হন নেতাকর্মীরা। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে পুলিশ প্রেসক্লাবের সামেনে অবস্থানরত দলের নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে উপস্থিত হয়েছিলেন- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ঢাকার বকশিবাজার আলীয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত ৫নং বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। এবং তারেক রহমান’সহ বাকি ৫ আসামিদের ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড’সহ ২ কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করে আদালত।

খালেদা জিয়া ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। রায়ে তারেক রহমান, শরফুদ্দীন আহমেদ ও মমিনুর রহমানকে পলাতক দেখানো হয়েছে।

রায়ের দিন আদালত ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের সারসংক্ষেপ পড়া হয়। রায়ের অনুলিপি ১ হাজার ১৭৪ পৃষ্ঠার।

রায়ের পরপরই খালেদা জিয়াকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। নির্জন কারাগারের একমাত্র বন্দি হিসেবে বেগম জিয়া সেখানেই আছেন।

এমবি