বিএনপিকে জড়িয়ে দেয়া তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দলটির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, এই হাসানুল হক ইনুই বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের প্রতিষ্ঠাতা।

শনিবার দুপরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিপন বলেন, আমরা মনে করি-ইনু সাহেবদের মত এই সরকারে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী রয়েছেন যারা বর্তমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরনের জন্য বড় প্রতিবন্ধক  হিসেবে কাজ করছে।

ড. রিপন বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে আমাদের মহাসচিব দেশে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু সরকারের মন্ত্রীরা এই ঐক্যের বিষয়ে আজেবাজে কথা বলছে। এর পেছনে হাসানুল হক ইনুদের দুরভিসন্ধি রয়েছে। সুতরাং সরকারকে দেখতে হবে তাদের মিত্রদের মধ্যেও অন্য কিছু রয়েছে কিনা। অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ। সুতরাং এদের থেকে সাবধান হতে সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমান তথ্যমন্ত্রী দায়িত্ব থাকাকালীন সময়ে দেশের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম বন্ধ হয়ে গেছে। বেকার হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার সাংবাদিক। এমনকি প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের মত পত্রিকায় অলিখিত বিজ্ঞাপন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। যাতে করে সরকার ও তাদের মন্ত্রী-এমপিদের অপকর্ম প্রকাশিত না হয়।

বিএনপি ইতিবাচক রাজনীতি করে বলেই জাতীয় ঐক্যের আহ্বান থেকে সরে যায়নি জানিয়ে দলটির এই মুখপাত্র বলেন, ‘হাসানুল হক ইনু বলেছেন, মহাজোট গঠনের মধ্য দিয়ে তারা জাতীয় ঐক্যের পথ রচনা করেছেন। আমরা বলতে চাই, এই জোট গঠন করা হয়েছে, স্বৈরাচার এরশাদ সরকারকে সঙ্গে নিয়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, যারা ‘৭২ থেকে ‘৭৫ সালে দেশে উগ্রবাদী রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন। রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল এবং নিরাপত্তাহীণ করার চেষ্টা করেছিলো।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, আজ শহীদ জেহাদ দিবস। ৯০-এর গণআন্দোলনের এই দিনে নাজিউর রহমান জেহাদ শহীদ হয়েছিলেন। আমরা দলের পক্ষ থেকে তার স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানিয়েছি। একইভাবে আমরা বলতে চাই- যে স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে জেহাদকে জীবন দিতে হয়েছিল। সেই স্বৈরাচার এরশাদ বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দুত হিসেবে কাজ করছেন।

তাই আজকে জেহাদের শাহাদাত বার্ষিকীতে আমরা দাবী করছি, অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দুতের পদ থেকে পতিত স্বৈরাচার এরশাদকে বরখাস্ত করার জন্য। অন্যথায় জেহাদসহ যারা গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছিলেন তাদের আত্মা শান্তি পাবে না।

ছাত্রদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের সুচিকিৎসা এবং তার মুক্তি দাবি করে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, পুলিশ গ্রেফতারের সময়ে তার পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে আহত করেছে। একইভাবে দলের অসংখ্য নেতার প্রতি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অনুরুপ নির্দয় ভূমিকা নিয়ে তাদের গ্রেফতার করেছে। আমরা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি এবং আটক নেতা-কর্মীদের মুক্তি দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, গণশিক্ষা সম্পাদক সানা উল্লাহ মিয়া, যুবদলের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য তকদির হোসেন জসিম প্রমুখ।

এমএইচ