বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় থাকার জন্য এই নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে। তাদের এই ষড়যন্ত্র এদেশের জনগন কখনো মেনে নেবে না। গণতন্ত্রকে হত্যা করে পাতানো নির্বাচনে বিএনপি যাবে কি-না তা ভেবে দেখতে হবে।
আজ (শুক্রবার) জুম্মার নামাজের পর মানিকগঞ্জের ঘিওরে পাচুরিয়া গ্রামে বিএনপির সাবেক মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার কবর জিয়ারত ও দোয়া অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
বর্তমান সরকারকে অনির্বাচিত ও অগণতান্ত্রিক সরকার উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেছেন, এই সরকার বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করতে একের পর এক মিথ্যা ও চক্রান্তমূলক মামলা দিয়ে জুলুম নির্যাতন চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় থাকার জন্য এই নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে। তাদের এই ষড়যন্ত্র এদেশের জনগন কখনো মেনে নেবে না। গণতন্ত্রকে হত্যা করে পাতানো নির্বাচনে বিএনপি যাবে কি-না তা ভেবে দেখতে হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মরহুম খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ছিলেন একজন দৃঢ়চেতা ও আদর্শনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ। দৃঢ়তা, অটুট মনোবল ও ব্যক্তিত্বে তিনি ছিলেন অনন্য উচ্চতায় একজন ব্যতিক্রমী রাজনীতিবিদ। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধিকার, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের মুক্তির সকল সংগ্রামে তিনি রেখেছেন অসামান্য অবদান।
তিনি আরও বলেন, ১/১১-তে দেশের এক চরম রাজনৈতিক সংকটকালে বিএনপি মহাসচিবের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন দলের বিরুদ্ধে চক্রান্ত রুখে দিতে যোগ্য নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী দর্শনকে বুকে ধারণ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচারের কবল থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের প্রত্যেকটি আন্দোলন সংগ্রামে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের অবদান দল ও দেশবাসী চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।
খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার কবর জিয়ারত ও দোয়া অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ড্যাবের মহাসচিব ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির সহ-সভাপতি সাবেক বিদ্যুৎ-মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু, বিএনপির সহ: প্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রুখসানা খানম মিতু, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ইছাক আলী সরকার, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম শান্ত, সহ-সভাপতি খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে খোন্দকার আব্দুল হামিদ খান ডাবলু, জেলা বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক খোন্দকার আকবর হোসেন বাবলু, সহ সভাপতি অ্যাড. জামিলুর রশিদ খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, ১৬ মার্চ বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, ভাষা সৈনিক, জাতীয় নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিএনপির সাবেক মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১১ সালের এই দিনে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর খোন্দকার দেলোয়ার বিএনপির মহাসচিব নিযুক্ত হন। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পুরো সময় বিএনপির নানা সঙ্কটে খালেদা জিয়ার পক্ষে তিনি জোরালো ভূমিকা পালন করেন। তৎকালীন সরকার জোর করে বিএনপির নেতৃত্ব বদল করতে চাইলেও শুধুমাত্র খোন্দকার দেলোয়ারের জোরালো ভূমিকায় তা ব্যর্থ হয়।
এমবি





