প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিশংসন চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে বিচারপতি শামসুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী মানিকের চিঠি দেশের বিচার ব্যবস্থায় বিরল নজির বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। এই চিঠির মাধ্যমে বিচার বিভাগকে বিতর্কিত করে এতে বিচার প্রার্থীদের মধ্যে শঙ্কা সৃষ্টি করবে বলেও দাবি করেছে দলটি।

বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখপাত্র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন এসব কথা বলেন।

আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, গত কয়দিন আগে দেশের বিচারালয়ে খুব বড় মাপের প্রলয় বয়ে গেছে। যদিও দেশের গণমাধ্যমে খবরটি এসেছে খুব ছোট করে। দেশের বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী এখন আর বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির নেই। এ ক্ষমতা জাতীয় সংসদের উপর ন্যস্ত। বিচারপতি শামসুদ্দিন আহমেদ মানিক স্পীকারের কাছে অভিযোগ না করে রাষ্ট্রপতির কাছে তা পাঠিয়ে প্রমান করেছেন প্রধান বিচারপতিকে অপসারন করা তার উদ্দেশ্য ছিল না। তার উদ্দেশ্য ছিল প্রধান বিচারপতিকে অপদস্ত করা।

তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি শুধু একজন ব্যক্তি নয়, একটি ইনস্টিটিউশন। তিনি কোন ধর্মের লোক তা বিবেচ্য নয় । তাকে অপদস্ত করা দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা। এটা কারো কাম্য নয়।

বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে বিচারপতি মানিকের যে অভিযোগ তার চেয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার (মানিক) নিজের বিরুদ্ধে। তিনি সব সময়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করেছেন। তিনি অতীতে সংসদের স্পীকারকে মূর্খ বলেছেন। দেশের সম্মানিত নাগরিকদের কাঠগরায় দাড় করিয়ে রেখেছেন। মানুষকে হেনেস্থা করেছেন। বিচারপতির দায়িত্বে থেকে অযাচিতভাবে রাজনৈতিক বক্তব্য রেখেছেন।

তিনি আরো বলেন, বিচারপতি শামসুদ্দিন মানিকের দুর্ভাগ্য যে স্পীকারকে তিনি মূর্খ বলতেন সেই স্পীকার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় তার কাছেই প্রধান বিচারপতির অভিশংসনের জন্য সুবিচার প্রার্থনা করেছেন।

রিপন বলেন, আমাদের দেশে রাজনীতিসহ অনেক কিছু বিভাজিত এরপর বিচারবিভাগও যদি বিভাজনের শিকার হয় তা জাতির জন্য দুর্ভাগ্য জনক। আমরা তা প্রতাশা করি না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে মানিককে উচ্চ আদারতে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। বিএনপি তাকে স্থায়ী করেনি। এটা বিএনপির সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। কারন বিএনপি তার সম্পর্কে ভাল করেই জানত মানিক টোটালি রং হেডেড।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, চোখ বন্ধ করে রাখলেই প্রলয় থেমে থাকে না। বিরোধী দলকে হামলা মামলা দিয়ে দমনে ব্যস্ত না থেকে সরকারের ভেতরে থাকা কুলাঙ্গারদের ড্যামেজ করা উচিৎ।

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, বর্তমান প্রযুক্তির যুগ। বিএনপি চেয়ারপারসন বিশ্বের যে স্থানেই থাকুন না কেন তিনি বিএনপিরই চেয়ারপারসন। তার অবর্তমানে দলের সিনিয়র নেতারা যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করবেন। দলের পুনর্গঠনে যারা দায়িত্ব প্রাপ্ত তারা পুনর্গঠনে কাজ করবেন। এতে কোন অসুবিধা নেই। উই আর ভেরি মাচ টাচ উইথ হার।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার হায়দার আলী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নিতাই রায় চৌধুরী, সহ দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, শামীমুর রহমান শামীম, বিএনপির মিডিয়া ইউং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার প্রমুখ।

এমএইচ