বাংলাদেশকে খাম খেয়ালীর আজব দেশ বানাতে দেয়া যাবেনা মন্তব্য করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল করিব রিজভী আহমেদ বলেছেন, এই অবৈধ সরকার গায়ের জোরে বেশিদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেনা। জনগণের চলমান আন্দোলনেই তাদের বিদায় নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘সরকার তাদের বেপরোয়া আচরণ, অনাচার আর রক্তারক্তির ভয়ংকর পরিস্থিতিতে জনগণের সমর্থন থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। জনগণকে দমানোর জন্য একমাত্র পুলিশ ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ওপর নির্ভর করাই তাদের একমাত্র অবলম্বন।’

তিনিবলেন, '৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর থেকে দেশের জনগণএখন পরাধীন। তাদের সকল নাগরিক অধিকারগুলো কেড়ে নেয়া হয়েছে। বিরোধী দলের সংবিধান স্বীকৃত অধিকারগুলোকে কঠিনভাবে সংকুচিত করা হয়েছে। সভা সমাবেশসহ গণতান্ত্রিক কোনোকর্মসূচি পালন করতে দেয়া হচ্ছেনা।

সরকার দুর্নীতে নিমজ্জিত অভিযোগ করে রিজভী আহমেদ বলেন, অবৈধ ক্ষমতার জোড়ে আ’লীগ দেশব্যাপী চাঁদাবাজিতে লিপ্ত। তারা দোকনপাট ও বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও দখল করছে। লঞ্চ,বাস টার্মিনালগুলোতে চাঁদাবাজি ও ছিনতাই করছে।

তিনি বলেন, সন্ত্রাস আর দূর্নীতির কলঙ্কে মলিন সরকার তাদের প্রতিশোধের রাজনীতিতে রাশ টেনে ধরতে পারছেনা। তারা দেশে একতরফা প্রভুত্ব কায়েম করার উদ্দেশে লুটতরাজ ও খুন জখমকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের অবৈধ সত্তা নিয়ে দেশে-বিদেশে ধিক্কার উঠেছে সেটিকে তিনি গায়ে না মেখেই নির্লজ্জের মতো বিদেশ সফর করছেন।’

‘দেশে অর্থনৈতিক খাতকে হরিলুট করে রাষ্ট্র ও দেশের সম্পদের লুন্ঠনের পথ খুলে দেয়া হয়েছে’-এমন অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘এর উদ্দেশ্য সবকিছু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পকেটে গিয়ে জমা করা।

১ নভেম্বর নাটোরে ২০ দলীয় জোটের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে রিজভী আহমেদ বলেন, সমাবেশে যোগ দিতে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আগামী শনিবার সকাল দশটায় গুলশানের বাসা থেকে রওনা দেবেন। তিনি উত্তরা, টঙ্গী, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ হয়ে নাটোর পৌঁছাবেন। সেখানে বিকালে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।

সংবাদ সমম্মেলনে বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিবউন নবী খান সোহেল, সহ দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ/কেএইচ