‘একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসনের’ কবলে দেশের গণতন্ত্র আবারও খাদের কিনারে গিয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
তিনি বলেন, ভোটারবিহীন নির্বাচনের পর গণতন্ত্র এখন মৃতপ্রায়। বহুদলীয় গণতন্ত্রের চেতনা আজ ভূলুণ্ঠিত, মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের চেতনাও আজ বিপর্যস্ত। সরকারের ক্ষমতায় থাকার লিন্সা দেশ ও জাতিকে এক গভীর সংকটের মধ্যে ফেলেছে।
স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নায়ক ডা. শামসুল আলম খান মিলনের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে জনগণের ক্ষমতায়নকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। আর সে লক্ষ্যে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এখন ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি।’
ডা. মিলনের আত্মত্যাগকে সার্থক করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি নেত্রী।
ডা. মিলনের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে বিএনপি চেয়ারপারসমন বলেন, ‘স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর তৎকালীন স্বৈরচারী এরশাদ সরকারের লেলিয়ে দেওয়া পেটোয়া বাহিনীর গুলিতে শহীদ হয়েছিলেন ডা. শামসুল আলম খান মিলন। জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলন জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় নাম।’
তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারী শাসনের শৃঙ্খল ভেঙে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ডা. শামসুল আলম খান মিলনের এই সর্বোচ্চ ত্যাগ ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। সব কর্তৃত্ববাদী, স্বৈরাচারী গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে তিনি আমাদের প্রেরণার উৎস।’
ডা. মিলনের শাহাদৎবার্ষিকীতে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
অপর এক বাণীতে শহীদ ডা. মিলনের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন।
রিপন বলেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ডা. মিলনের আত্মদান ’৮০-এর দশকে নয় বছরের স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রাম চূড়ান্ত বিজয়কে সহজ করেছিল। স্বৈরাচার হটিয়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠাই ছিল তার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা।’
তিনি বলেন, ‘ডা, মিলনের আত্মত্যাগ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা বিনির্মানে এবং এদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথকে প্রশস্ত করে দিয়েছিল, যা আজো অধরা হয়েই রয়েছে। তার স্বপ্ন, আত্মত্যাগ আজো স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের অনুপ্রাণিত করে।’
এমআর





