রাজধানীতে পা চালিত মাত্র ৭৯ হাজার রিকসার বৈধ লাইসেন্স রয়েছে। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন সেই লাইসেন্সগুলো তাদের নিয়মানুযায়ী নির্দিষ্ট সময় নবায়ন করে থাকে। সূত্রমতে জানা যায়, ১৯৮৬ সালের পর ডিসিসি আর নতুন কোন রিকসার নতুন লাইসেন্স অনুমোদন করেনি। 
কিন্তু দিনদিন ঢাকার জনসংখ্যা বাড়তে থাকে। অবৈধভাবে বাড়তে থাকে ঢাকায় চলাচলকারী রিকসার সংখ্যাও।
একটি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার জরিপ মতে ঢাকায় অবৈধ প্রায় ৫ লাখ ম্যানুয়াল রিকসা অর্থাৎ পা চালিত রিকসা চলাচল করে। নতুন রিকসা ভ্যানের লাইসেন্স ইস্যুর জন্য দীর্ঘদিন যাবৎ রিকসা ভ্যান মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো কঠোর আন্দোলন করে। সেই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তাদের সাথে ২০০১ সালে একটি সমঝোতা চুক্তি হয় যে,  ৪৩ হাজার রিকসা ভ্যানের নতুন লাইসেন্স ইস্যু করা হবে। 
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1396944233.jpg[/img]
কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতা ও আমলাতিন্ত্রক জটিলতার কারণে এ যাবৎ সেই লাইসেন্সগুলো ইস্যু হয় না। ফলে সবগুলো সংগঠনের সমন্বয়ে রিকসা-ভ্যান মালিক শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে ঐ লাইসেন্সের জন্য আন্দোলনের পাশাপাশি উচ্চ আদালতের আদেশ নিয়ে সাংগঠনিক নিজস্ব পরিচয়পত্র দিয়ে ঢাকায় ৪৩ হাজার রিকসার প্লেট তৈরী করে তা বিক্রি করে আসছে। যখন আদালতের আদেশ থাকে না তখন প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তারা ঐ প্লেটগুলো চালায়। ফলে এক শ্রেণীর অসাধু পুলিশ সহসাই মোটা অংকের টাকা কামিয়ে নেয়।    
২০০৮ সাল থেকে একটি পক্ষ শুরু করে ব্যাটারী চালিত রিকসা তৈরীর কাজ এটা সম্পূর্ণ অবৈধ ও অনিয়মতান্ত্রিক। বর্তমানে ঢাকায় প্রায় লক্ষাধিক ব্যাটারীচালিত রিকসা চলাচল করে। একটি সংগঠন তাদের জরীপে ৩০ হাজার ব্যাটারী চালিত রিকসা সনাক্ত করেছে। এ রকম প্রায় ১০টি সংগঠন ঢাকায় ব্যাটারী চালিত রিকসা তৈরী করছে ও অবৈধভাবে পরিচালনা করছে। ইতিমধ্যে ব্যাটারী চালিত রিকসার লাইসেন্স প্রদান ও তা চলাচলের অনুমতি চেয়ে বেশ কয়েকটি সংগঠন উচ্চ আদালতে মামলা করেছে। আদালত তাদের ২ মাসের অনুমতি দিয়ে গাড়ী আটক না করার জন্য প্রশাসনকে নোটিশ দিয়ে দিয়েছে। আগামী ১৫ এপ্রিল ঐ সবগুলো রিট আবেদনের শুনানী হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে ঢাকার বৃহত্তর মিরপুরে কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে একটি বাহিনী গঠন করে সংঘবদ্ধভাবে ব্যাটারী চালিত রিকসার টোকেন তৈরী করে তা বিক্রি করে প্রতি মাসে কামিয়ে নিচ্ছে প্রায় ১ কোটি টাকা। ঐ চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছে মিরপুরের সন্ত্রাসীদের গডফাদার খ্যাত জামিল মুন্সী, পিতা- মৃত নশু মুন্সি, গ্রাম- বেজয়া ভাটারা, উপজেলা- মোকসেদপুর, জেলা- গোপালগঞ্জ।
বর্তমানে সে মিরপুর ১০নং গোলচক্করে বহুমুখী কুটির শিল্প সমবায় সমিতি মার্কেটে অফিস নিয়ে এই টোকেন ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। তার সহযোগী হিসেবে আনিস সহ বেশ কয়েকজন রয়েছে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1396943264.jpg[/img]
জামিল তার টোকেনে ‘ঈগল মার্কা’ ব্যবহার করে স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশের মাসিক ভিত্তিতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা জেলা রিকসা মালিক সমিতি লিঃ গত ২২ মার্চ ২০১৪ ঢাকা মহানগর পুলিশ বরাবর একটি অভিযোগ দাখিল করেন।
এছাড়াও  গত ২৯ মার্চ ২০১৪ ঢাকা জেলা আওয়ামী রিকসা ও ভ্যান মালিক সমন্বয় পরিষদ পৃথক একটি আবেদন করেন। ঐ আবেদন অনুযায়ী জানা যায়, জামিলের দেয়া মিরপুর অঞ্চলে তার টোকেন দিয়ে প্রায় ১৫০০০ ব্যাটারী চালিত রিকসা চলাচল করে। সে এক একটি টোকেন বাবদ নিয়ে থাকে প্রতি মাসে ৮০০ টাকা। টাইগার প্রতীক ছাড়াও জামিল কখনও 'জ' ও 'শ' অক্ষর প্রতীক ব্যবহার করে পুলিশের সহযোগিতায় এই অবৈধ টোকেন ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে। জামিলের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসাবে কাজ করে আনিছ। জামিল নিজেকে গোপালগঞ্জের লোক পরিচয় দিয়ে সকল সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্ব-রাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়েরকৃত আরেক অভিযোগে জানা যায়, জামিল ও আনিছকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে মিরপুর জোনের টি.আই আশরাফুল ইসলাম। সে ট্রাফিক বিভাগের বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে এ কাজে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সংযুক্ত করে। তাদের ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৃথক একটি আবেদন করেন ভুক্তভোগীরা। এরা হলেন টিআই জহিরুল ইসলাম, সার্জেন্ট বিল্লাল, সার্জেন্ট আতিক প্রমুখ।
আবেদনে বলা হয়, এসব পুলিশ অফিসাররা জামিলের পৃষ্ঠপোষকতায় মিরপুর, মোহাম্মদপুর, পল্লবী, আদাবরসহ ঢাকার অন্যান্য অঞ্চলে এ টোকেন বিক্রি করে। অভিযোগ রয়েছে যেসব সংগঠন উচ্চ আদালতের আদেশে ব্যাটারীচালিত রিকসা এবং পা চালিত রিকসার প্লেট বিক্রি করে আদালত অবমাননা করে সেইসব রিকসাগুলো আটক করে। 
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1396943266.jpg[/img]
কিন্তু জামিলের টোকেন সম্পূর্ণ অবৈধ এবং ঐগুলোর আইনগত কোন বৈধত না থাকলেও অভিযুক্ত পুলিশ বাহিনী মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ঐগুলো চলাচলের সুযোগ করে দেয়, এতে প্রকৃত রিকসার মালিক, শ্রমিক ও সংশ্লিস্ট সংগঠনগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ব্যাপারে জামিলের কাছে ফোনে জানতে চাইলে জামিল এ প্রতিবেদককে বলেন, আপনারা যা পারেন লিখেন। পত্রিকায় লিখলে কিছুই হয় না। আমার বাড়ী গোপালগঞ্জ আমি সবকিছু ম্যানেজ করে নিব। এসব বিষয়ে আনিসের কাছে জানতে চাইলে সে বলে আমরা যা করি পুলিশকে ম্যানেজ করেই করি। আমরা প্লেটের টাকা একা খাইনা, পুলিশকে সমানভাগে ভাগ দেই।
এছাড়াও সব চ্যানেলে আমার পরিচিত ও আত্মীয়-স্বজন সাংবাদিক আছে, আমার বিরুদ্ধে কেউ কিছু লিখবে না। ঘটনার একটু পরই এস.এ টিভির মারুফ নামে কম্পিউটারম্যান পরিচয়ে একজন এ প্রতিবেদককে ফোন করে পরিচয় জানতে চায় এবং সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বলে। টি.আই আশরাফের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ যে, সব সংগঠনগুলোর কাছ থেকেই সে হুমকি দিয়ে অনৈতিকভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। টি.আই আশরাফ এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ বানানো। অবৈধ গাড়ীগুলো আটক করি বলে আমি তাদের কাছে বিরাগভাজন। মিরপুর ট্রাফিক জোনের একজন উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভিযোগগুলো আমরা পেয়েছি। ইতিমধ্যে অন্য অভিযোগে টি.আই আশরাফকে সাবধান করে দেয়া হয়েছে। বাকীগুলো তদন্ত পূর্বক শীঘ্রই যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
[b]ঢাকা,জেই,এমআর, ৮ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসএইচ[/b]