রোববার সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে ফার্নেস অয়েলবাহী ট্যাংকার ডুবির ১৩ দিন পর সরকারের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে পাঠানো বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ্‌ আহমেদ শফি সুন্দরবনে বিপর্যয়ের কারন ব্যাখ্যা দিয়েছেন । এসময় বিপর্যয় রোধে হেফাজতের স্থানীয় কর্মীদের শরিক হওয়ার আহ্বানও জানান শফী।

ফার্নেস অয়েলবাহী ট্যাংকার থেকে বিষাক্ত তেল ছড়িয়ে পড়ায় সুন্দরবনে স্মরণকালের ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে শফী বলেন, ‘দায়দায়িত্বহীনভাবে আল্লাহর সৃষ্টি সকল প্রাণ ও প্রাণীর জীবনের জন্য বিষাক্ত এই তেল বহনকারী ত্রুটিযুক্ত জাহাজ বনের ভিতর দিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে চলাচল করানো হচ্ছিল। কেবল মুনাফা লাভ ও ক্ষমতার লোভেই এরা প্ররোচিত হয়েছে। আল্লাহর নেয়ামতকে অবজ্ঞা করার এই কাণ্ড দেখে আমরা শঙ্কিত এবং মর্মাহত।’

বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা আহমেদ শফী বলেছেন, এদেশের শাসক ও জনগণ ইসলামের বিধিনিষেধ না মেনে চলায় এবং তাদের সীমাহীন ভুলের কারণে সুন্দরবনের এই পরিবেশ বিপর্যয় (ফার্নেস অয়েলবাহী ট্যাংকারডুবি) সংঘটিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এই ছড়িয়ে পড়া তেল নদী ও উপকূলীয় এলাকাকে দূষিত করেছে এবং আল্লাহর সৃষ্টি সকল প্রাণ ও প্রাণীর জীবনের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করেছে। সুন্দরবন অঞ্চলের সামগ্রিক প্রাণবৈচিত্র্যের মরণাপন্ন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। শুধু তাই নয়, সেখানকার জেলেসহ স্থানীয় অন্যান্য বাসিন্দাদের জীবিকার পথও রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে বিরল জাতের বিভিন্ন জলজ প্রাণীর মৃত্যু ছাড়াও সামনে আরো ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির ইঙ্গিত সুস্পষ্ট। যার আগাম অনুমান ও মূল্যায়নও রীতিমতো অসম্ভব। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত জলজ প্রাণীদের করুণ মৃত্যুর খবরও আমাদেরকে ব্যথিত করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রাণ-পরিবেশ ও প্রকৃতি মহান আল্লাহর সৃষ্টিকুলের হেফাজত করাই মুমিন মুসলমানদের কর্তব্য। পরিবেশ ও প্রকৃতি ধ্বংস করা ইসলামবিরোধী কাজ। সকল প্রাণের ও মানুষের রিজিকের উদ্দেশ্যে সৃষ্ট প্রাণ-পরিবেশ ও প্রকৃতির হেফাজত নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সকলের বিশেষত মুসলিমদের এগিয়ে আসাতে হবে।’

এছাড়া সুন্দরবন এলাকার বিপদগ্রস্ত সকল প্রাণবৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক জৌলুস রক্ষায় আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করার জন্য দেশবাসীর প্রতিও আহ্বান জানান শফি

এসএইচ