বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২০১৬ সেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সেক্রেটারি জেনারেল মনোনয়ন সম্পন্ন হয়েছে। টানা ৩ দিন অনলাইনে সদস্যদের ভোটে কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আতিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত।

৩০ ডিসেম্বর বুধবার এ ফলাফল ঘোষণা করেন সহকারী নির্বাচন কমিশনার ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মতিউর রহমান আকন্দ।

রাজধানীর শহীদ আব্দুল মালেক মিলনায়তনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের অধিবেশনে নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় সভাপতির নাম ঘোষণা করা হয়। নাম ঘোষণার পর নবনির্বাচিত সভাপতিকে শপথ পাঠ করান সহকারী নির্বাচন কমিশনার মতিউর রহমান আকন্দ।

গত ২৭-২৯ ডিসেম্বও সারাদেশে অনলাইনের মাধ্যমে একযোগে কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচনে ভোট দেয় সদস্যরা। নির্ধারিত সময়েরর মধ্যে ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি ছাত্রশিবিরের সংবিধান অনুযায়ী ২০১৬ সেশনের জন্য কার্যকরী পরিষদের সঙ্গে পরামর্শ করে ইয়াসিন আরাফাত কে সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে মনোনয়ন দান করেন।

নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান এর আগে ঢাকা মহানগরী উত্তর সভাপতি, কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক, সাহিত্য সম্পাদক, অফিস সম্পাদক এবং ২০১৪ সেশনে সেক্রেটারী জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নব মনোনীত সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত এর আগে ঢাকা মহানগরীর পূর্বের সভাপতি,কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক,কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

উল্লেখ্য নবনির্বাচিত সভাপতি বর্তমানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া থেকে এমফিল গবেষনায় অধ্যয়নরত আছেন। এবং নবমনোনিত সেক্রেটারী জেনারেল সেক্রেটারী জেনারেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স, মাষ্টার্স শেষ করে বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে এমফিল করছেন।

উল্লেখ্য, ছাত্রশিবির সাংবিধানিক বাধ্য বাধকতা এবং ইতিহাস-ঐতিহ্যের আলোকে প্রতিবছরের মতো এবারও গোপন ব্যালটের মাধ্যমে সারা দেশের সদস্যদের ভোট গ্রহণ করা হয়। সাধারণত প্রতি বছর ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয়সদস্য সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা এবং শপথ অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের দমন নিপীড়নের ফলে গত বছরের মতো এবারও কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। ফলে শিবিরের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা ও সেক্রেটারি জেনারেল মনোনয়ন কাজ কার্যকরী পরিষদের অধিবেশনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন করা সম্ভব নাহলেও শিবিরের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী প্রতি বছরই কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

এমএম