খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বের বিএনপিকে ‘অবৈধ’ দাবি করেছে ‘আসল বিএনপি’র ক্রান্তিকালীন মুখপাত্র দাবিদার কামরুল হাসান নাসিম। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন করেছেন, বর্তমান বিএনপির নেতৃত্বের সঙ্গে কোনো ধরনের সংলাপে না বসতে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে ‘আসল বিএনপি’র নেতৃত্ব সৃষ্টির পর তাদের সঙ্গে যেন প্রধানমন্ত্রী সংলাপ করেন; সে দাবিও জানান নাসিম।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সোমবার দুপুর ১২টা ১৭ মিনিটে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ আবেদন জানান। সকাল ১০টায় এ মতবিনিময় হওয়ার কথা থাকলেও নেতাকর্মী ও সংবাদকর্মী উপস্থিত না থাকায় তা শুরু হয় সাড়ে ১২টা নাগাদ। তিনি সময় থেকে শুরু করে সব কিছুতে ‘১৭’ সংখ্যাটিকে গুরুত্ব দেন জানিয়ে মতবিনিময় শুরুর সময় ১২টা ১৭ মিনিট নির্ধারণের ব্যাখ্যা দেন।
তার দাবি পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা ১৭ জন নেতাকর্মী ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বিভিন্ন কমিটির। তবে এ সব নেতাকর্মী দলের কোন কোন পদে দায়িত্বপালনকারী তিনি তা বলতে পারেননি।
কামরুল হাসান নাসিম বলেন, বিএনপিকে মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে আমি একজন ওষুধওয়ালামাত্র। আমি এ উদ্যোগ না নিলে হয়তো আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিএনপি ভেঙে যেত। বিএনপি মুসলিম লীগে পরিণত হত। জিয়াউর রহমানের আদর্শের বিএনপি গড়তে আমি আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিএনপির সকল কমিটি পুনর্গঠন করে সেখান থেকে দলের চেয়ারম্যান ও মহাসচিব নির্বাচন করব।
তিনি বলেন, দেশের জন্য আগামী ৫০/১০০ বছরের জন্য যারা দীর্ঘমেয়াদী ভিশন দিতে পারবে আমরা তাদের নেতৃত্বে নিয়ে আসব। বর্তমানে সমঝোতা-সহমর্মিতার প্রয়োজন রয়েছে। তবে এখন দেশে বিদেশী শক্তিগুলো কাজ করছে। দেশে সহিংসতা, সমঝোতা-সংলাপ না হওয়াসহ যা কিছু ঘটছে তার পেছনে বিদেশী শক্তিগুলো কাজ করছে।
নাসিম বলেন, আমরা খালেদা জিয়াকে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি দলের চেয়ারপারসন পদ থেকে পদত্যাগ করার আল্টিমেটাম দিয়েছি। তিনি যদি তা না করেন তবে আমরা ৩ ফেব্রুয়ারি ১৭শ’ বিএনপি’র সমর্থক কলম নিয়ে তার কার্যালয়ের দিকে যাব। সেখানে গিয়ে অবৈধ খালেদা জিয়ার কাছ থেকে পদত্যাগ আদায় করব।
তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান করে বলেন, আপনি গুটি কয়েক বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কোনো সংলাপ করবেন না। আগামী ৬ মাসের মধ্যে আমরা বিএনপির বৈধ পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে ৪টি বিষয়কে সামনে রেখে আপনার সাথে সংলাপ করব। আমাদের আলোচনায় শুধু তত্ত্বাবধায়ক বিষয় থাকবে না। আগামীতে বাংলাদেশ কিভাবে চলবে, শাসন রীতি, একাদশ নির্বাচন কেমন হবে সে বিষয়েও আলোচনা করব।
খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কঠোর সমালোচনা করে নাসিম বলেন, আমরা খালেদা জিয়া ও তার পুত্রের ওপর বিশ্বাস করে দলের দায়িত্ব দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা কেউ দল পরিচালনা করতে পারছে না। খালেদা জিয়া এখন রাজনৈতিক অপশক্তির নেত্রী হয়েছেন। জঙ্গিদের নেত্রী হয়েছেন। সহিংসতার নেত্রী হয়েছেন। তাকে আর কোনো বৃহৎ রাজনৈতিক দলের কাণ্ডারী হিসেবে থাকতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান যেমন বিদগ্ধ রাজনীতিবিদদের নিয়ে রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন। আমিও দেশের সকল বিদগ্ধ রাজনীতিবিদদের নিয়ে বিএনপি পুনর্গঠন করব। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারির পর ১৫ দিন পরপর আসল বিএনপিতে শুধু চমক দেখা যাবে। আগামী ৬ মাস পর আমরা সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিকভাবে বর্তমান মহাজোট সরকারকে চ্যালেঞ্জ করতে পারব।
তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে নাসিম বলেন, তারেক রহমান বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ করে বক্তৃতা দেন। তাকে একটু সম্মান দিলে কি সমস্যা হয়। আপনি আগামী ৫০ বছর নিয়ে, দেশ নিয়ে কথা বলতে পারেন না। আপনি যদি সেটা করতেন তাহলে আপনার মাকে কাজের মেয়ে মর্জিনাকে নিয়ে বের হতে হতো না।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ও তারেকে জিয়াকে এখন আর কেউ ভালবাসে না। আমরা তাদের আর সময় দিতে চাই না। আবার গায়ের জোরে কিছু করতে চাই না। সারা দেশে আসল বিএনপির প্রায় এক থেকে দুই কোটি সমর্থক রয়েছে। তাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি বিএনপির ৪/৫ জন মুখপাত্রকে দেখা যাবে। যারা হয়তো বিএনপির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য বা চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বা মহানগর নেতা। তারা সবার পরিচিত মুখ।
নাসিম আরও বলেন, সরকারকে ফেলে দিতে ঢাকাতে আন্দোলন করতে খালেদা জিয়া ঢাকা মহানগর কমিটি পুনর্গঠন করেছেন। তিনি ক্ষমতায় যাওয়ার নেশায় যাদের এ নেতৃত্বে বসিয়েছেন, তারা সবাই সন্ত্রাসী। শীর্ষ সন্ত্রাসীরাই ঢাকা মহানগর কমিটির নেতৃত্বে বসেছেন।
নাসিম আরও দাবি করেন, ২০০২ সালে তিনি রাজধানীর পল্লবী থানা বিএনপির অ-অনুমোদিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। কিন্তু গ্রুপিং থাকার কারণে তাদের কমিটি কেন্দ্র অনুমোদন দেয়নি। এ ছাড়া তিনি নিজ জেলা যশোরের চৌগাছা থানা কৃষক দলের সভাপতি ছিলেন বলেও নিজেকে দাবি করেন।
এএইচ





