জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে আগামী ২০ জুলাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অভিভাবক সমাবেশের ডাক দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট।
সোমবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ১৪ দলীয় জোট আয়োজিত জঙ্গি ও সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে এ ঘোষণা দেন জোটের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। এছাড়া আগামী ২১ জুলাই নারী সমাবেশের ডাক দিয়েছে জোটটি।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, শহীদ মিনার আমাদের ত্যাগের প্রতিক। এখান থেকে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ৭১ এ আমরা পাকিস্তানিদের পরাজিত করেছিলাম। আজও ষড়যন্ত্রকারীদের পরাজিত করবো। দেশের মানুষ শেখ হাসিনার সঙ্গে আছে। কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিক শিল্পীসহ দেশের সমস্ত শক্তি আজ আমাদের সঙ্গে আছে। তাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা আমরা এই সন্ত্রাসী, জঙ্গি ও ষড়যন্ত্রকারীদের পরাজিত করবোই।
১৪ দলের নেতাদের নিয়ে পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, রংপুর কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে যাবো। জঙ্গি ও সন্ত্রাসীরা কোথায় আছে তা খুঁজে খুঁজে বের করবো। তাদের প্রতিহত করবো।
এ সময় জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রতিরোধ কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সকল শ্রেনী পেশারকে নিয়ে এ কমিটি গঠন করতে হবে। তারা সব সময় সতর্ক থাকবেন। কোথাও সন্দেহজনক কিছু দেখলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আমাদের জানাবেন। জনগণকে সচেতন করবেন।
বিএনপি-জামায়াতের প্ররোচণায় কতগুলো জঙ্গি দল দেশে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন নাসিম।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, পরাজিত শক্তি দেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। যা আমাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে। গুলশানের ঘটনার পরে খালেদা জিয়া সেই ঘটনাকে ‘রক্তাক্ত অভ্যুত্থান’ বলে আখ্যায়িত করলেন। তিনি এর আগে হেফাজতকে এনেও অভ্যুত্থান ঘটাতে চেয়েছিলেন। এখন আবার তিনি অভ্যুত্থানের স্বপ্ন দেখছেন।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগুন সন্ত্রাসীদের পরাজিত করেছি। এখন তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তবে তা পাকিস্তানী দোসরদের সঙ্গে হবে না। এক্য হবে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বে বিশ্বসী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শক্তির মানুষের।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, যাদের দেশে পুলিশ হত্যা হলেও তারা কিছু বলে না, বাংলাদেশে কিছু ঘটলে তারা খবরদারী করতে আসে। যারা ইরাকে হামলা চালিয়েছিলো তাদের কথায় আমরা নাচবো না। আমরা আমাদের মতো এগিয়ে যাবো।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের এজেন্ট একাত্তরের ঘাতকদের সঙ্গে কোন ঐক্য হতে পারে না। ঐক্য হবে মুক্তিকামী মানুষের সঙ্গে।
১৯৭১ সালে যারা মা-বোনের গাঁয়ে হাত তুলেছে তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ আপোষ করিনি এই জঙ্গীদের সঙ্গেও আপোষ করবো না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
তিনি বলেন, যারা ইসলামের ক্ষতি করেছে, তারা মানুষের ক্ষতি করেছে। এ আক্রমণের সঙ্গে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। যারা ইসলাম পালন করে তারা নামাযের সময় মানুষ খুন করতে যায় না।
সমাবেশে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার ৩১ দলীয় জোট সংহতি প্রকাশ করেন। এ সময় নাজমুল হুদা ১৪ দলের নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, জঙ্গি বিরোধী আন্দোলনে আপনারা কেন খালেদা জিয়াকে নিয়ে আলাপ করেন। ওনাকে বারবার বলেও কিছু হয়নি, আপনারা কেন তাকে এতো গুরুত্ব দেন! জঙ্গিবাদ বিরোধী এই সমাবেশ ও আন্দোলনের সঙ্গে ৩১ দলীয় জোটে থাকবে।
সমাবেশে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা সংহতি প্রকাশ করে বক্তৃতা দেন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি সফিকুর রহমান, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. এম এ আজিজ, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাকসুদ কামাল প্রমুখ সংহতি প্রকাশ করেন।
১৪ দলীয় জোটের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, জাতীয় পার্টি জেপি মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (একাংশ) সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশীদ খান, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান প্রমুখ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
ইআর





