জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) এর চেয়ারম্যান পদ থেকে ববি হাজ্জাজকে বহিস্কার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আজ (সোমবার) এনডিএম-এর ভাইস চেয়ারম্যান আবু সৈয়দ স্বাক্ষরিত এক প্রেসবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
গণমাধ্যমকে পাঠানো ওই প্রেসবার্তায় বলা হয়, সোমবার দুপুরে এনডিএম-এর কার্য নির্বাহী কমিটির এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিাত হয়। দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবু সৈয়দ এর সভাপতিত্বে পল্টনের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় প্রাথমিক কার্য নির্বাহী কমিটির ১৬ সদস্যের মধ্যে মহাসচিবসহ ১০ জন উপস্থিত ছিলেন।
এতে এনডিএম এর চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজের বিরুদ্ধে স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতা প্রয়োগ,বিশেষ সহকারী (চেয়ারম্যানের ক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষমতা প্রদান) নামে ববির চাপিয়ে দেয়া খসড়ায় গঠনতন্ত্রে অগণতান্ত্রিক পদ সৃষ্টি, এক নায়কতন্ত্র ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা, বিশেষ উপদেষ্টা হতে অর্জিত বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহারে উৎসাহী হওয়া, শুরুতে জনগণের গণতন্ত্র উল্লেখ করে অল্প দিনেই মহাসচিবসহ অন্যদের কোন ধরনের মতামত ব্যতিত,বিশেষ সহকারীর বিশেষ সহায়তায় মত পাল্টিয়ে জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্র দলীয় মূল চারনীতির নামকরণে পরিবর্তন আনা,একই কায়দায় ঘন ঘন মত পাল্টিয়ে আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা,ব্যক্তিগত সহকারীকে দিয়ে নেতাকর্মীদের হুমকি-ধামকির স্বরে কথা বলা,সাংবাদিকদের কটাক্ষ করে কথা বলা,কানকথা আমলে নেয়া এবং এক শ্রেণীর হলুদ সাংবাদিকের কূ-পরামর্শ শোনা,রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতি কর্মচারীর মতো আচরণ করার অভিযোগ আনা হয়।
ববি হাজ্জাজের বিরুদ্ধে জমিদারী শাসনামলের মতো অফিসে শাহজাদার পদুকা ব্যবহার আর বাকীদের প্রজাদের মতো খালি পায়ে হাটার জন্য বাধ্য করা,দল গঠনের আগেই কর্মীদের অনুদান সংগ্রহে বাধ্য করা,দলে আসতে প্রাথমিক উৎসাহীদের জোর করে সদস্যপত্র পূরণ করা,মাল্টিলেবেল কোম্পানীর মতো ওরিয়েন্ট্যাশনের নামে রাজনৈতিক দলকে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী বানিয়ে ব্যক্তিগত ফায়দা লোটা,কর্মচারীর দ্বারা নেতাকর্মীদের শপথ বাক্য পাঠ করানো,স্বপ্নের দেশ নামে নাগরিক ক্ষমতায়নের ব্যানারে বিদেশ হতে অবৈধ অর্থ স্থান্তান্তরের পায়তারা করার অভিযোগও আনা হয়।
স্বপ্নের দেশ এর ব্যানারে লোক দেখানো জঙ্গিবাদ বিরোধী গবেষণার নামে সরকারের স্বঅবস্থানের সাফাই গেয়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে বৃদ্ধাঙুলী দেখিয়ে (কোন ধরনের সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ না করে কপি মাষ্টার বিশেষ সহকারীর মনগড়া রিপোর্ট,যা দেশের বেশীরভাগ সংবাদপত্র প্রকাশে অনিহাপ্রকাশ করে) বিশেষ একটি গোষ্ঠীর শক্তি কাজে লাগানোর জন্য ববি হাজ্জাজের চেষ্টারও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় এনডিএম- এর কার্য নির্বাহী কমিটির সভায়।
প্রেস বার্তায় আরো বলা হয়, এসব অনৈতিক, অযোগ্য, অদক্ষ, অরাজনৈতিক আচরণ, স্বৈরাচারী মনোভাব, অযোগ্য ও অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের বড় পদ দেয়া, মুক্তিযোদ্ধার দখলকৃত বাড়িতে দলের অফিস রাখা,দেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ¯স্লোগান চুরি করে ’জয় বাংলাদেশ” করা এবং কর্মচারী দ্বারা দল চালানোর প্রতিবাদ করায় এনডিএম এর মূল উদ্যোক্তা,যার মস্তিক সৃষ্ট পরিচ্ছন্ন রাজনীতির নতুন ধারা,জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন(এনডিএম) এই নামকরণ যার চিন্তার ফসল,দলের চার মূলনীতি(বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ,স্বাধীনতার চেতনা,ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জনগণের গণতন্ত্র) যার রাজনৈতিক চেতনা,সেই যোগ্য নেতা,বীর মুক্তিযোদ্ধা এ টি এম গোলাম মাওলা চৌধুরী ও দল গঠনের আরেক অন্যতম পরিকল্পনাকারী ভাইস চেয়ারম্যান আবু সৈয়দকে সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী কায়দায় অব্যাহতি দেয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি আমরা।
এতে বলা হয়, দলের গঠনতন্ত্র চুড়ান্ত না হওয়া সত্ত্বেও মাত্র ১৬ জনের প্রাথমিক কার্য নির্বাহী কমিটির কোন ধরনের মতামত না নিয়ে পরাজিত খলনায়কের মতো পেছন থেকে আক্রমণ করা হয় উভয় নেতার উপর। ২রা ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার,সাপ্তাহিক বৈঠকে কেক কেটে ভাইস চেয়ারম্যান আবু সৈয়দ এর জন্মদিন পালন,ফুলেল শুভেচ্ছা এবং মিষ্টান্ন আপ্যায়ন শেষে সাংগঠনিক কাজে মহাসচিব ও ভাইস চেয়ারম্যান কক্সবাজার সফরে থাকাকালীন সময় ৩রা ফেব্রুয়ারি ,শুক্রবার পরাজিত ইংরেজদের দোসর- মীর জাফরী কায়দায় আক্রমণ চালিয়ে পত্র-পত্রিকায় উভয় নেতার অব্যাহতির প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয় যা দূর্বল চিত্তের মানুষের পরিচয়।
প্রেস বার্তায় অভিযোগ করা হয়, শুধু তাই নয় ৪ঠা ফেব্রুয়ারী শনিবার সকালে নির্বাহী কমিরি সদস্যদের জরুরী বৈঠক ডেকেও কোন ধরনের আলোচনা ছাড়া দেশের অন্যতম ব্যান্ডশিল্পী শাফিন আহমেদকে চুড়ান্তহীন গঠনতন্ত্রের দোহাই দিয়ে স্বৈরাচারী কায়দায় দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরামে নিয়োগ দেয়া হয়। সঙ্গে শিলা ইকবাল নামে মাইটিভির এক সংবাদ উপস্থাপিকাকেও যুগ্ম মহাসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়া হয়। আরো পাচজনকে অগণতান্ত্রিকভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যা পদ বাণিজ্য ছাড়া আর কিছু নয়।
ব্যক্তিগত সহকারীকে ধমক দেয়ার কারণে দলের নেতাকর্মীদের একমাত্র কান্ডারী, মহাসচিব এ টি এম গোলাম মাওলা চৌধুরীর ৪৫ বছরের রাজনৈতিক সম্মানের হানি ঘটানো হয়েছে। সঙ্গে পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ধারার সকল নেতাকর্মীদের কর্মচারীর দ্বারা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করায় এবং জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্র মুখে নয়,দলে প্রয়োগের দাবি তুলতে গিয়ে এনডিএম মহাসচিব গোলাম মাওলা চৌধুরীকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার প্রতিবাদে কার্য নির্বাহী কমিটির এই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অযোগ্য,অদক্ষ দল পরিচালনাকারী, স্বেচ্ছাচারী রাজনৈতিক প্রতারক ও ঠকবাজ,স্বাধীনতাযুদ্ধে বির্তকিত ভূমিকা ও সময়ের সমালোচিত ব্যবসায়ী মূসা বিন শমসের পুত্র ববি হাজ্জাজকে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন(এনডিএম) এর চেয়ারম্যান পদ থেকে বহিস্কার করা হলো।
আরো বলা হয়, সেই সঙ্গে কার্য নির্বাহী কমিটিতে স্থান দেয়া স্বপ্নের দেশ” নামে পকেট সংগঠনের ব্যানারের ব্যক্তিগত কর্মচারী,এশিয়ান ইউনির্ভাসিটির শিক্ষক আবদুল্লাহ এম তাহের,যমুনা টেলিভিশনের অনুষ্ঠান উপস্থাপিকা সৈয়দা সাদিয়া মেহেজাবীন, খালিদ ইমতিয়াজ ও এস কে সিয়াম আলীকেও সর্বসম্মতিক্রমে বহিস্কার করা হলো। কার্য নির্বাহী কমিটির এসব সিদ্ধান্ত ৬ ফেব্রুয়ারী, সোমবার হতে কার্যকর হলো।
বলা হয়, এনডিএম তার নিজস্ব গতিতে চলবে। শিগগিরই নতুন চেয়ারম্যান তার দায়িত্ব নেবেন। মহাসচিব পদে এ টি এম গোলাম মাওলা চৌধুরী বহাল আছেন। হঠাৎ গজে ওঠা ব্যক্তি দিয়ে রাজনীতি হয় না, এটা আবারো প্রমাণিত হলো। হতে পারে একটি উন্নতমানের পদ-পদবী বিক্রির শপিং মল। যেখানে কর্মচারীদের দাপট, রাজনৈতিক কাউন্সিলিং এর নামে মাল্টিলেবেল মার্কেটিং কোম্পানীর ট্রেইনারের উচ্চস্বরের ধমক আর সরকার বিরোধী কথাবার্তা; অতপর জোর করে সদস্যপত্র পুরণ ও স্বাক্ষর করিয়ে নেয়ার মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে চলে।
কেবি





