বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, এ ঘটনায় ক্ষমতাসীনরা দায় এড়াতে পারে না। এ বিষয়ে সরকারের কৈফিয়ত কারও কাছে গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার বিএনপির চেয়ারপারসনের এ বক্তব্য তার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়।

বিবৃতিতে খালেদা জিয়া বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিত্বহীন শাসক গোষ্ঠীর স্বেচ্ছাচারিতা দেশে এখন এক চরম অস্বাভাবিক অবস্থার সৃষ্টি করেছে। যাকে যখন ইচ্ছা গ্রেপ্তার, অপহরণ, গুম ও খুন করা হচ্ছে। গ্রেফতারের পর অনেকের লাশ পাওয়া যাচ্ছে। অনেকের হদিসও মিলছে না। বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমসহ সারা দেশে শত শত নেতা-কর্মীকে গ্রেফতারের পর অস্বীকারের উদ্বেগজনক প্রবণতাও এখন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।’

সালাহ উদ্দিন আহমেদকে গত মঙ্গলবার রাতে ‘রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির না করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে আটক করার কথা অস্বীকৃতির’ ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন খালেদা জিয়া।

বিবৃতিতে খালেদা জিয়া আরও বলেন, ‘দলের মুখপাত্র হিসেবে গ্রেপ্তার এড়িয়ে দল ও জোটের পক্ষ থেকে বক্তব্য, বিবৃতি দেওয়া এবং কর্মসূচি ঘোষণার কারণে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের লোকজন তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে গত মঙ্গলবার রাতের আঁধারে দরজা ভেঙে সালাহ উদ্দিন আহমেদকে চোখ বেঁধে ও হাতকড়া পরিয়ে তুলে নেওয়ার ঘটনায় ক্ষমতাসীনদের সেই ক্রোধেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।’

সালাহ উদ্দিন আহমেদকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার বিষয়ে তার ‘পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগ গ্রহণে পুলিশের অস্বীকৃতির’ বিষয়ে তীব্র নিন্দা জানান বিএনপির চেয়ারপারসন।

তিনি বলেন, ‘এখন দেশে আইন যে স্বাভাবিক গতিতে চলছে না, এটা তার জ্বলন্ত প্রমাণ। জাতীয় পর্যায়ের একজন রাজনীতিকের ক্ষেত্রে যেখানে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সেখানে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা যে কতখানি অনিশ্চিত তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।’

জেএ