বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ফায়ার সার্ভিসকর্মী সোহেল রানার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।

আজ (০৯ এপ্রিল) মঙ্গলবার রাজধানীতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই জানাজায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, “ফায়ারম্যান সোহেল রানার পরিবারের পাশে থাকবে সরকার।”

বনানীর এফআর টাওয়ারে লাগা আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হন কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের ফায়ারম্যান সোহেল রানা। গত ০৭ এপ্রিল (রোববার) সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎধীন অবস্থায় মারা গেছেন।  গতকাল (সোমবার) রাতে তাঁর মরদেহ ঢাকায় আসে। আজ বেলা ১১টায় তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে।

ফায়ারম্যান সোহেলের ছোট ভাই উজ্জ্বল মিয়া জানান, দেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে তাঁর ভাই মৃত্যুবরণ করেছেন। সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।

উজ্জ্বল মিয়া বলেন, “অন্যকে সেবার করার কাজে আমার ভাই আগ্রহ দেখাতেন। ভাই আমার সেই কাজটিই করেছেন। এফআর টাওয়ারে অন্যের জীবন বাঁচাতে গিয়ে আমার ভাই আর নেই। আমার ভাই ছিল আমার পরিবারের সম্বল।”

জানাজা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, “ফায়ারম্যান সোহেল রানার জন্য সরকার সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিল।” তিনি বলেন, “সর্বোচ্চ চিকিৎসা তাঁকে দেওয়া হয়েছে। সে একজন উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিল। ফায়ার সার্ভিস তো বটেই, আমরা সবাই লক্ষ্য রাখব তার যদি উপযুক্ত কেউ থাকে, তার চাকরির ব্যবস্থা করা।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “ফায়ার সার্ভিসে জনবল দক্ষতার সঙ্গে আমাদের ইক্যুয়েপমেন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি একটি ক্রমাগত প্রচেষ্টা।”

পরে সোহেল রানার মৃতদেহ দাফনের জন্য তাঁর গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনায় নিয়ে যাওয়া হয়।

গত ২৮ মার্চ বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সময় কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের ফায়ারম্যান সোহেল রানা ঘটনাস্থলে উঁচু মই দিয়ে আগুন নেভানোর কাজ করেন। এক পর্যায়ে নিরাপত্তা হুক মইয়ের সাথে আটকে যায় সোহেল রানার শরীর। পরে সোহেল পড়ে গিয়ে বিপদজনকভাবে আহত হন। তখন তার একটি পা ভেঙে যায়।

সেদিনই তাঁকে চিকিৎসার জন্য ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। সেখানেও সোহেল রানার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে গত ৫ এপ্রিল তাঁকে সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু তাঁকে বাঁচানো যায়নি। গত রোববার (০৭ এপ্রিল) মারা যান সোহেল। গতকাল (সোমবার) রাতে তাঁর মরদেহ ঢাকায় আসে। আজ (০৯ এপ্রিল) বেলা ১১টায় তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে।

বনানীর অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা ২৬ 

রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের ১৭ নম্বর রোডের ২২তলা এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ভবনটিতে আটকা পরে অনেক মানুষ। ঘটনার দিননিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫। আহত হয়ে অন্তত ৭৩ জন রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সিএমএইচ -এ আজ (৩০ মার্চ) সকালে আবু হেনা মোস্তফা কামাল নামের একজনের মৃত্যু হয়। এই অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা ২৬ জনে দাঁড়ায়।

বৃহস্পতিবারের (২৮ মার্চ) অগ্নিকাণ্ডে ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আগুন নেভানো ও হতাহতদের উদ্ধারের কাজ করে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, রেড ক্রিসেন্টসহ ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত অনেক স্বেচ্ছাসেবী কাজ করে। প্রায় সাড়ে ৬ ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত ৭টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ স্বেচ্ছাসেবীর ভূমিকা রাখছেন। আশপাশের এলাকায় পানির সন্ধান করা, পাইপ টেনে নিয়ে যাওয়ায় দমকর্মীদের সঙ্গে ব্যস্ত হয়ে পড়তে দেখা গেছে অসংখ্য সাধারণ মানুষকে।

এমবি