আগামীকাল রবিবার ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডেকেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ রবিবার বিকেল ৫টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, বৈঠকে ভুয়া ও মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সাজার প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি তাঁর মুক্তির দাবি ও জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গণতান্ত্রিক আন্দোলন জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।

এদিকে শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে গুলশানের দলটির শীর্ষ নেতারা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ‘৭৩ বছর বয়সী একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে কারান্তরীণ রেখে ও তাকে ডিভিশন না দিয়ে সরকার তাঁর সঙ্গে সম্পূর্ণ অমানবিক আচরণ করছে। জেল কোডের মধ্যে খুব পরিষ্কার করে বলা আছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বা সাবেক বিরোধী দলীয় নেত্রীর ক্ষেত্রে ডিভিশন দিতে কোনও অনুমতির দরকার নেই। অর্থাৎ জেল কোডেই বলা হচ্ছে তারা ডিভিশন পাবেন। অথচ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এখনও ডিভিশন পাচ্ছেন না। আমরা অবিলম্বে তাকে ডিভিশন দিয়ে যথাযথ মর্যাদায় সকল সুযোগ সুবিধা দেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় এর জন্য সরকারকে দায়ী থাকতে হবে- নিয়ম এবং জেল কোড ভঙ্গ করার জন্য।’

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা-বানোয়াট মামলা প্রত্যাহার ও তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ‍তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। কর্মসূচির মধ্যে আগামী সোমবার সারা দেশে একযোগে মানববন্ধন, মঙ্গলবার অবস্থান ধর্মঘট ও শেষ দিন বুধবার সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত দেশব্যাপী অনশন কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি।

শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ স্ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ০৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তারেক রহমানসহ বাকিদের ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার পর ওই দিনই কড়া নিরাপত্তায় খালেদা জিয়াকে ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই আছেন।