যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয় বাংলাদেশ বিষয়ে বা বাংলাদেশের সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন প্রশ্নে দেশটির অবস্থানের কোনো পরিবর্তন আনবে না বলে মনে করছে বিএনপি। কারণ হিসেবে দলটির নেতারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোতে সরকার পরিবর্তন হলেও মূল বৈদেশিক নীতির খুব একটা হেরফের হয় না।
অবশ্য মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন জয়ী হলে বিএনপি কিছুটা বাড়তি সুবিধায় থাকত বলে দলটির নেতা-কর্মীদের অনেকে বিশ্বাস করেছিলেন। কারণ, নেতা-কর্মীদের অনেকে বিশ্বাস করেন, হিলারির সঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। এর আগে ভারতের নির্বাচনেও বিজেপির জয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা।
দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনেকে মনে করেছিলেন, কংগ্রেসকে হারিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সুবিধা পাবে বিএনপি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
অবশ্য মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন না বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয় এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশ বা এখানকার সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, মার্কিন নির্বাচন থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশে নির্বাচন হচ্ছে না। বাংলাদেশেরও উচিত গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে গত ২৬ অক্টোবর বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনে হিলারির জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। সেদিন নিজের ফেসবুকে শওকত মাহমুদ হিলারির সঙ্গে নিজের কথোপকথনের ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘হিলারি ক্লিনটনকে বেগম জিয়ার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শওকত মাহমুদ।’
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্ত্রী মিশেল ওবামা হিলারির পক্ষে ভোট চেয়ে একটি ভিডিও ছেড়েছিলেন। সে ভিডিওতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ফার্স্ট লেডি হিসেবে হিলারির শুভেচ্ছা বিনিময়ের ছবি স্থান পেয়েছিল। হিলারির ফ্যাশন নিয়ে একটি ‘ফটো স্টোরি’ করেছিল একটি বিখ্যাত ফ্যাশন ম্যাগাজিন। সেখানেও খালেদা জিয়ার সঙ্গে হিলারির একটি ছবি ছিল।
এই ভিডিও ও ছবি বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খানসহ বিএনপির নেতা-কর্মীদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করেছিলেন। দলটির নেতা-কর্মীদের অনেকে বিষয়গুলো নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলেন। তাঁদের অনেকের ধারণা ছিল, হিলারি জয়ী হলে বিএনপি লাভবান হবে।
তবে হিলারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় গেলে বিএনপি লাভবান হতো বলে মনে করেন না বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, হিলারি জয়ী হলেও বাংলাদেশ প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাবের তেমন কোনো পরিবর্তনের সুযোগ ছিল না। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে ওদের কিছু ‘কোর পলিসিতে’ সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন আসে না। হিলারি নির্বাচিত হলেও সেই ‘কোর পলিসি’র বাইরে কিছু করতে পারতেন না।
বিএনপির নেতারা সরাসরি কিছু না বললেও তাঁদের অনেকে যে হিলারির জয় ও বিএনপিকে জড়িয়ে স্বপ্ন দেখছিলেন, তার আঁচ পাওয়া যায় ছাত্রদলের এক নেতার ফেসবুক স্ট্যাটাসে। ছাত্রদলের সহসভাপতি ফেরদৌস আহমেদ তাঁর ফেসবুকে ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, ‘দোস্ত ট্রাম্পকে অভিনন্দন। উনি বিএনপি নেতাদের আরামের বিছানায় বরফশীতল পানি ঢেলে দিয়েছেন। এখন যদি ওনাদের ঘুমটা ভাঙে!’
এমই





